পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পলিথিন-প্লাস্টিক বন্ধে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০১:৫৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৮ বার পড়া হয়েছে
পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশ দেওয়া হয়।
পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে কঠোরতা
সভায় পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরিবেশের ওপর এসব পণ্যের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়েও মতবিনিময় করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে নেওয়া পদক্ষেপের কার্যকারিতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বায়ু, পানি ও মাটি দূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব
সভায় বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এসব দূষণের উৎস চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
বিশেষ করে বায়ুদূষণ কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়। অন্যদিকে পানিদূষণ ও মাটি দূষণ নিয়ন্ত্রণেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এ ছাড়া শব্দদূষণ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের করণীয় নিয়েও মতবিনিময় করেন সভায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা।
পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট ব্যবহারে গুরুত্ব
নির্মাণ খাতে পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়।
এ ক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে পর্যালোচনা
পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সভায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কোথায় অগ্রগতি হয়েছে, সেটিও আলোচনায় আসে। একই সঙ্গে যেসব ক্ষেত্রে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করা হয়।
শহর ও বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ খাতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, তা নিয়েও মতবিনিময় করেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ
প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেন।
এ ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে একাধিক মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হয়।
এ ছাড়া সরকারের চলমান কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়মিত পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভবিষ্যতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে।
সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও সভায় অংশ নেন।
এ ছাড়া পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারও সেখানে ছিলেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম সভায় অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. সাইমুম পারভেজও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।





















