দেশীয় আঙুর ফল টক এ ধারণা বদলে দিয়েছেন সাতক্ষীরার হেলাল উদ্দিন
- আপডেট সময় : ১১:২৭:৫৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
আঙুর বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে আমদানিকৃত বিদেশি ফল। ধারণা ছিল, দেশের মাটিতে আঙুর চাষ হলেও তা মূলত টক স্বাদের হয়। তবে এই প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়েছেন সাতক্ষীরার হেলাল উদ্দিন। সঠিক জাত নির্বাচন আর সঠিক পরিচর্যায় দেশের মাটিতেই ফলিয়েছেন মিষ্টি আঙুর। তার এই সাফল্য দেখে এখন এই অঞ্চলে আঙুর চাষে আগ্রহী হচ্ছেন স্থানীয় বেকার যুবকরাও।
আঙুর মানেই বিদেশি ফল আর বাঙালির কাছে তা টক স্বাদের—এমন ধারণা দীর্ঘদিনের। কিন্তু সেই বদ্ধমূল ধারণা ভেঙে দিয়েছেন সাতক্ষীরার কৃষক হেলাল উদ্দিন। তিনি প্রমাণ করেছেন, মেধা আর পরিশ্রমে সঠিক জাতের যত্ন নিলে বাংলার মাটিতেও উন্নত মানের মিষ্টি আঙুর ফলানো সম্ভব। বর্তমানে তার এক বিঘা জমিতে শোভা পাচ্ছে আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, ইউক্রেন ও ইতালিসহ ১০টি ভিন্ন দেশের উন্নত জাতের আঙুর।
শুরুটা স্রেফ শখের বসে হলেও, সময়ের ব্যবধানে তা এখন পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। বিদেশি মাটির এই ফল সাতক্ষীরার মাটিতে এমন মিষ্টি স্বাদে ফলবে, তা ভাবেননি অনেকে। বর্তমানে তার বাগানে উৎপাদিত নজরকাড়া আঙুর দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন উৎসুক প্রতিবেশী ও সাধারণ মানুষ।
সাফল্য ছোঁয়া এই উদ্যোক্তা জানান, সঠিক জাত আর কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহারে এ চাষে লাভ হওয়া সম্ভব। বর্তমানে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই আঙুর চাষ এখন একটি সফল ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
সাতক্ষীরা অঞ্চলে আঙুরের এই বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। ভবিষ্যতে এই চাষ সারা জেলায় ছড়িয়ে দিতে সব ধরণের কারিগরি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তারা।
হেলাল উদ্দিনের মতো উদ্যোক্তাদের হাত ধরে সাতক্ষীরার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি বেকার যুবকদের জন্য তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


























