তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব
- আপডেট সময় : ০৪:৪৭:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা এবং তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক সেমিনারে বক্তারা এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, এমপি।
সেমিনারে তিস্তা নদীর বর্তমান পরিস্থিতি, নদীর পানি ব্যবস্থাপনা, ভাঙন, বন্যা, শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট এবং নদীনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি তিস্তা নদীর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনায় বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রকৌশলগত দক্ষতা এবং স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতাকে সমন্বয় করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা শুধু একটি নদী নয়; এর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের মানুষের কৃষি, অর্থনীতি, পরিবেশ ও জীবন-জীবিকা গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই তিস্তা নদীর ব্যবস্থাপনায় এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে নদীর পানিপ্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি তিস্তাপাড়ের মানুষের স্বার্থও সুরক্ষিত হয়।
তিনি বলেন, নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা প্রয়োজন। এ জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, বুয়েটসহ সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণ জরুরি।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের পরিবর্তনের কারণে তিস্তা অববাহিকায় বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির স্বল্পতার কারণে কৃষি ও জীববৈচিত্র্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় নদীর সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ, পলি ব্যবস্থাপনা, নদীভাঙন রোধ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কৃষি ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেন।
সেমিনারে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বুয়েটের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, শিক্ষক, গবেষক এবং বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। তিস্তা নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ভবিষ্যতে গবেষণা ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আরও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তারা।


























