ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট জানুয়ারিতে!
- আপডেট সময় : ০৩:১৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৬৬৯ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) অডিটে বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করতে পারলে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকেই ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু হতে পারে। এ তথ্য জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, নিউইয়র্কের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতেও সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে নিউইয়র্ক রুট চালুর ক্ষেত্রে আইকাওর নির্ধারিত নিরাপত্তা ও সক্ষমতার মান অর্জনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উড়োজাহাজ সংকট কাটাতে লিজের উদ্যোগ
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে বর্তমানে উড়োজাহাজের সংকট রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গন্তব্যে বিদ্যমান ফ্লাইট বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই সংকট প্রভাব ফেলছে।
সংকট কাটাতে পর্যায়ক্রমে অন্তত ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর আগামী বছর থেকে পর্যায়ক্রমে এসব উড়োজাহাজ বিমানের বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে একদিকে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বাড়ানো সম্ভব হবে। অন্যদিকে উড়োজাহাজের অভাবে বন্ধ থাকা বা কম ফ্রিকোয়েন্সিতে চলা রুটেও সেবা বাড়ানো যাবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বোয়িংয়ের নতুন উড়োজাহাজ ২০৩১ সাল থেকে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগ পর্যন্ত লিজের উড়োজাহাজ দিয়ে বহরের সক্ষমতা ধরে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে নতুন সময়সূচি
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বিমানমন্ত্রী। আগামী ২৫ আগস্ট জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর দরপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। দরপত্র মূল্যায়নের পর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে চুক্তি সই করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তি সইয়ের পর কাজ শেষ করে আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিং করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের মান নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে সময় আরও এক থেকে দুই মাস বাড়তে পারে। সরকার আপাতত ১৬ ডিসেম্বরের লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
যাত্রীসেবায় গুরুত্ব
দায়িত্ব গ্রহণের পর বিমানবন্দর ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেবার মান উন্নয়নেও গুরুত্ব দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বিমানবন্দরের পরিচ্ছন্নতা বাড়ানো, যাত্রীসেবার মান উন্নত করা এবং যাত্রী হয়রানি কমানোর ওপর জোর দেন।
মন্ত্রী বলেন, বিমান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং পর্যটন খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। যাঁরা দায়িত্ব পালনে দক্ষতা দেখাবেন, তাঁদের উৎসাহিত করা হবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থদের পরিবর্তে যোগ্য লোককে দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অভ্যন্তরীণ রুটেও ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা
আন্তর্জাতিক রুটের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান যোগাযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঈশ্বরদী বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে নতুন গতি আসতে পারে। বিশেষ করে উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়লে গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফ্লাইটের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে নতুন উড়োজাহাজ লিজ নেওয়া, নিউইয়র্ক ও সিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক রুট চালু, অভ্যন্তরীণ রুট সম্প্রসারণ এবং শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর মাধ্যমে দেশের বিমান খাতকে আরও সক্ষম করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে আইকাও অডিটে প্রয়োজনীয় গ্রেড অর্জন করাই এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
























