০৩:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্র্যামি জয়ী কণ্ঠশিল্পী ক্যাসান্দ্রা উইলসন মারা গেছেন

বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৫২ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আমেরিকান জ্যাজ গায়িকা ও গীতিকার ক্যাসান্দ্রা উইলসন মারা গেছেন। চার দশকের বেশি সময় ধরে সংগীতাঙ্গনে প্রভাব রাখা এই শিল্পীর মৃত্যু হয়েছে ৭০ বছর বয়সে। মিসিসিপির জ্যাকসনে নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপক রবার্ট টরের উপস্থিতিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ক্যাসান্দ্রা উইলসনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি।

জ্যাজ সংগীতে অনন্য অবদান

ক্যাসান্দ্রা উইলসন তার স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও গায়কির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। জ্যাজ, ব্লুজ ও লোকসংগীতের বিভিন্ন উপাদানকে তিনি নিজের সংগীতে নতুনভাবে উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি তার গানে পপ, কান্ট্রি ও আরঅ্যান্ডবির প্রভাবও দেখা যায়।

জ্যাকসনের মেয়র জন হর্ন তাকে শহরের একজন ‘অসাধারণ সন্তান’ এবং অনন্য সংগীত-কণ্ঠস্বর হিসেবে স্মরণ করেছেন।

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জন বাতিস্তাও ক্যাসান্দ্রা উইলসনের সংগীতের প্রশংসা করেছেন। তার মতে, উইলসনের কণ্ঠে দক্ষিণাঞ্চলের সুরের উপস্থিতি ছিল। লোকসংগীত, আরঅ্যান্ডবি ও ডায়াসপোরিক সংগীতকে পরীক্ষামূলক ও জনপ্রিয় ধারার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার তার দক্ষতা পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদেরও প্রভাবিত করেছে।

ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহ

১৯৫৫ সালে মিসিসিপির জ্যাকসনে ক্যাসান্দ্রা ফোকস নামে জন্মগ্রহণ করেন ক্যাসান্দ্রা উইলসন। মাত্র ছয় বছর বয়সে পিয়ানো শেখা শুরু করেন তিনি। পরে ১২ বছর বয়সে গিটার বাজানো শেখেন।

১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে নিউইয়র্কে পাড়ি জমানোর পর স্যাক্সোফোনবাদক স্টিভ কোলম্যানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি এম-বেস কালেক্টিভের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন।

গ্র্যামিতে দুইবার সাফল্য

১৯৮৮ সালে প্রকাশিত ‘ব্লু স্কাইস’ অ্যালবামের মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা পান ক্যাসান্দ্রা উইলসন। ১৯৯৩ সালে ‘ব্লু লাইট টিল ডাউন’ অ্যালবাম তাকে আরও বড় শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পরিচিত করে তোলে।

১৯৯৭ সালে তার ‘নিউমুন ডটার’ অ্যালবাম বেস্ট জ্যাজ ভোকাল অ্যালবাম বিভাগে গ্র্যামি পুরস্কার জয় করে। পরে ২০০৯ সালে ‘লাভারলি’ অ্যালবামের জন্য একই বিভাগে দ্বিতীয়বার গ্র্যামি পুরস্কার পান তিনি।

২০০১ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা গায়িকা হিসেবে উল্লেখ করে। ২০২২ সালে ক্যাসান্দ্রা উইলসনকে ‘ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর দ্য আর্টস জ্যাজ মাস্টার’ ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে জ্যাজ সংগীতশিল্পীদের জন্য এটি অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা।

ক্যাসান্দ্রা উইলসনের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার দীর্ঘ সংগীতজীবন ও স্বতন্ত্র কণ্ঠ জ্যাজ সংগীতের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

গ্র্যামি জয়ী কণ্ঠশিল্পী ক্যাসান্দ্রা উইলসন মারা গেছেন

আপডেট সময় : ০১:০০:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমেরিকান জ্যাজ গায়িকা ও গীতিকার ক্যাসান্দ্রা উইলসন মারা গেছেন। চার দশকের বেশি সময় ধরে সংগীতাঙ্গনে প্রভাব রাখা এই শিল্পীর মৃত্যু হয়েছে ৭০ বছর বয়সে। মিসিসিপির জ্যাকসনে নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাপক রবার্ট টরের উপস্থিতিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ক্যাসান্দ্রা উইলসনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। তবে তার মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করা হয়নি।

জ্যাজ সংগীতে অনন্য অবদান

ক্যাসান্দ্রা উইলসন তার স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও গায়কির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। জ্যাজ, ব্লুজ ও লোকসংগীতের বিভিন্ন উপাদানকে তিনি নিজের সংগীতে নতুনভাবে উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি তার গানে পপ, কান্ট্রি ও আরঅ্যান্ডবির প্রভাবও দেখা যায়।

জ্যাকসনের মেয়র জন হর্ন তাকে শহরের একজন ‘অসাধারণ সন্তান’ এবং অনন্য সংগীত-কণ্ঠস্বর হিসেবে স্মরণ করেছেন।

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জন বাতিস্তাও ক্যাসান্দ্রা উইলসনের সংগীতের প্রশংসা করেছেন। তার মতে, উইলসনের কণ্ঠে দক্ষিণাঞ্চলের সুরের উপস্থিতি ছিল। লোকসংগীত, আরঅ্যান্ডবি ও ডায়াসপোরিক সংগীতকে পরীক্ষামূলক ও জনপ্রিয় ধারার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার তার দক্ষতা পরবর্তী প্রজন্মের শিল্পীদেরও প্রভাবিত করেছে।

ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহ

১৯৫৫ সালে মিসিসিপির জ্যাকসনে ক্যাসান্দ্রা ফোকস নামে জন্মগ্রহণ করেন ক্যাসান্দ্রা উইলসন। মাত্র ছয় বছর বয়সে পিয়ানো শেখা শুরু করেন তিনি। পরে ১২ বছর বয়সে গিটার বাজানো শেখেন।

১৯৮০-এর দশকের শুরুর দিকে নিউইয়র্কে পাড়ি জমানোর পর স্যাক্সোফোনবাদক স্টিভ কোলম্যানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি এম-বেস কালেক্টিভের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হন।

গ্র্যামিতে দুইবার সাফল্য

১৯৮৮ সালে প্রকাশিত ‘ব্লু স্কাইস’ অ্যালবামের মাধ্যমে সংগীতাঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা পান ক্যাসান্দ্রা উইলসন। ১৯৯৩ সালে ‘ব্লু লাইট টিল ডাউন’ অ্যালবাম তাকে আরও বড় শ্রোতাগোষ্ঠীর কাছে পরিচিত করে তোলে।

১৯৯৭ সালে তার ‘নিউমুন ডটার’ অ্যালবাম বেস্ট জ্যাজ ভোকাল অ্যালবাম বিভাগে গ্র্যামি পুরস্কার জয় করে। পরে ২০০৯ সালে ‘লাভারলি’ অ্যালবামের জন্য একই বিভাগে দ্বিতীয়বার গ্র্যামি পুরস্কার পান তিনি।

২০০১ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা গায়িকা হিসেবে উল্লেখ করে। ২০২২ সালে ক্যাসান্দ্রা উইলসনকে ‘ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর দ্য আর্টস জ্যাজ মাস্টার’ ঘোষণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে জ্যাজ সংগীতশিল্পীদের জন্য এটি অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা।

ক্যাসান্দ্রা উইলসনের মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার দীর্ঘ সংগীতজীবন ও স্বতন্ত্র কণ্ঠ জ্যাজ সংগীতের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।