ক্যালিফোর্নিয়ার মসজিদে ভয়াবহ ট্র্যাজেডির নেপথ্যে যে ঘটনা
- আপডেট সময় : ০২:১১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
সান ডিয়েগোর শান্ত অপরাহ্ন হাওয়া হঠাৎ চিৎকার আর গুলির শব্দে থমকে গেল। তিন জীবন নীরবতার আড়ালে হারিয়ে গেল, আর কমিউনিটি যেন এক মুহূর্তে আতঙ্ক আর শোকের সাগরে ডুবে গেল।
আপসঃ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগোর সবচেয়ে বড় মসজিদে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে।এ বন্দুক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ এটিকে ইসলাম বিদ্বেষপ্রসূত হামলা হিসেবে তদন্ত করছে।
সোমবার দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার ক্লেয়ারমন্ট এলাকায় অবস্থিত ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন বন্দুকধারীদের একজনের বয়স ১৭ বছর। আরেকজনের ১৯ বছর। দুজন আবার গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
সান ডিয়েগো পু্লিশ জানায়, সোমবার সকালে বাড়ি থেকে বন্দুক ও গাড়ি নিয়ে এক কিশোরের পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তদন্ত করছিল তারা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বেলা পৌনে ১২টার (স্থানীয় সময়) দিকে সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে গোলাগুলির খবর পায় পুলিশ। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মসজিদের সামনে তিনজনকে গুলিবিদ্ধ ও মৃত অবস্থায় দেখতে পান কর্মকর্তারা। কর্মকর্তারা জানান, নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন ওই মসজিদের নিরাপত্তা প্রহরী। তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে বন্দুকধারীদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দিয়েছিলেন।
তদন্তকারীরা জানান, হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো জানা যায়নি। তবে এটিকে ঘৃণামূলক অপরাধ বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ আক্রান্ত স্থানটি সান ডিয়েগো কাউন্টির সবচেয়ে বড় মসজিদ এবং একজন সন্দেহভাজনের লেখা কিছু নোট পাওয়া গেছে।
হামলার প্রায় দুই ঘণ্টা আগে এক মা পুলিশকে ফোন করে জানান যে, তার ছেলে বাড়ি থেকে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আরেকজন সঙ্গীকে সহ ছদ্মবেশী সামরিক পোশাকে পালিয়ে গেছে। ওই কিশোর যাওয়ার আগে একটি নোট রেখে যায়, যাতে ব্যাপক মাত্রায় বর্ণবাদী ও উগ্র ঘৃণামূলক বক্তব্য লেখা ছিল। পুলিশ যখন ওই মায়ের সাথে কথা বলছিল, তখনই তারা মসজিদ থেকে মাত্র কয়েক ব্লক দূরে অবস্থান করছিল। কিন্তু পুলিশ মূল অপরাধের জায়গায় পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে পালিয়ে যায় এবং পরে নিজেরাই নিজেদের জীবন শেষ করে দেয়।
ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। তদন্তে সহায়তার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।
যে মসজিদে প্রতিদিন শান্তি, প্রার্থনা আর সহমর্মিতার বার্তা উচ্চারিত হয়, সেই পবিত্র স্থানই মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হলো রক্তাক্ত ট্র্যাজেডির সাক্ষীতে। সান ডিয়েগোর এই হামলা শুধু তিনটি প্রাণই কেড়ে নেয়নি, বরং নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—ঘৃণা আর উগ্রতার আগুন আর কত জীবন গ্রাস করবে?
























