এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, ফেল থেকে পাস ৪৫৮৫ শিক্ষার্থী
- আপডেট সময় : ১১:৩৭:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পুনঃনিরীক্ষণের পর ফেল থেকে পাস করেছেন ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী। এছাড়া নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়। আবেদনকারীদের মুঠোফোন নম্বরেও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করেও পুনঃনিরীক্ষণের ফল জানা যাচ্ছে।
রেকর্ডসংখ্যক আবেদন
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেন।
তবে একজন পরীক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। তাই পরীক্ষার্থীর তুলনায় মোট উত্তরপত্রের আবেদন ছিল অনেক বেশি।
সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। পাশাপাশি ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্রের জন্য আবেদন জমা পড়ে।
অর্থাৎ, এবার মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়েছে।
এবার পুনর্মূল্যায়নও হয়েছে
এবার পুনঃনিরীক্ষণ প্রক্রিয়ায় কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়। আবেদন করা উত্তরপত্র শুধু পুনঃনিরীক্ষণ নয়, পুনর্মূল্যায়নও করা হয়েছে।
আগের নিয়মে উত্তরপত্রে নম্বর যোগে কোনো ভুল হয়েছে কি না, তা মূলত যাচাই করা হতো। নতুন করে পুরো উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হতো না।
তবে এবার আবেদন করা উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
ঢাকা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি আবেদন
বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন পড়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে ৯৪ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেন।
তারা লিখিত পরীক্ষার ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ৫৮ হাজার ১২টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।
এ ছাড়া কুমিল্লা বোর্ডে ৩৫ হাজারের বেশি, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে ৩৯ হাজারের বেশি এবং যশোরে ২৮ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী আবেদন করেন।
বরিশাল বোর্ডে ১৭ হাজারের বেশি, সিলেটে ২০ হাজারের বেশি, দিনাজপুরে ৩৭ হাজারের বেশি এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ২৭ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেন।
অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে ৪০ হাজারের বেশি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন।
৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। এর ৩১ দিন পর পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হলো।
পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শেষ হয়েছিল ১৭ আগস্ট রাতে। আবেদন শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। গত ১৯ বছরের মধ্যে এটিই ছিল সর্বনিম্ন পাসের হার।
মূল ফল প্রকাশের পর অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাতা পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করেন। রেকর্ডসংখ্যক আবেদনের পর বৃহস্পতিবার প্রকাশ করা হলো সেই ফল।





















