ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে যুদ্ধবিরতি, মধ্যস্থতায় মেলানিয়া ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ১২:২৪:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন প্রদেশের ওলেশকি শহরে স্থানীয় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আওতায় যুদ্ধকবলিত শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর ক্রেমলিনও এ উদ্যোগকে সমর্থন করেছে। তবে যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং বেসামরিক নাগরিকদের স্থানান্তরের বিস্তারিত প্রক্রিয়া নিয়ে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।
ওলেশকিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট
যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের ওলেশকি শহরে বহু বেসামরিক নাগরিক আটকা পড়েছেন। খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় শহরটিতে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। সংঘাতের মধ্যে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, মেলানিয়া ট্রাম্পের দপ্তর থেকে তাঁর স্বাক্ষরিত একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। এতে শহরটির পরিস্থিতিকে ভয়াবহ উল্লেখ করে বলা হয়, যুদ্ধের সম্মুখসারিতে থাকা ওলেশকি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
বিবৃতিতে মেলানিয়া বলেন, তাঁর হস্তক্ষেপ ছাড়া শহরটিতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো না।
তৈরি হবে মানবিক করিডোর
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই মানবিক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে শহরটিতে একটি মানবিক করিডোর তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে বাসিন্দারা নিরাপদে শহর ছেড়ে যেতে পারবেন। একই সঙ্গে খাদ্য, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
ইউক্রেনের প্রধান আলোচক ও শীর্ষ মুখপাত্র ডেভিড আরাখামিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, মেলানিয়া ট্রাম্প ও পোপ লিওর অংশগ্রহণে দীর্ঘ আলোচনার পর এ চুক্তি হয়েছে।
তবে যুদ্ধবিরতির আওতা আপাতত ওলেশকি শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সামগ্রিক অবসানের কোনো ঘোষণা নয়।
বেসামরিক নাগরিকদের গন্তব্য নির্ধারণে স্বাধীনতা
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ওলেশকি থেকে যেসব বেসামরিক নাগরিক অন্যত্র চলে যেতে চান, তাঁদের সেই সুযোগ দেওয়া হবে। তবে স্থানান্তরের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে পেসকভ বলেন, মানবিক কার্যক্রম সমন্বয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানায় রাশিয়া।
মেলানিয়া জানিয়েছেন, শহর ছেড়ে যেতে ইচ্ছুক বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পরিবহনের ব্যবস্থা করা হবে। কেউ রাশিয়ায় যেতে চাইতে পারেন, আবার কেউ ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যেতে চাইতে পারেন। তাঁদের নিজস্ব ইচ্ছাকে সম্মান জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
এ প্রক্রিয়ায় তিনি নিজে এবং একটি নিরপেক্ষ মার্কিন গণমাধ্যম সংস্থা রুশ ও ইউক্রেনীয় পক্ষের সঙ্গে থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নথিবদ্ধ করবেন বলেও জানিয়েছেন। তবে ওই গণমাধ্যম সংস্থার নাম প্রকাশ করা হয়নি।
পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ
মেলানিয়া ট্রাম্পের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক বছর আগে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগের একটি গোপন মাধ্যম বা ‘ব্যাক চ্যানেল’ প্রতিষ্ঠার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর যুদ্ধের কারণে বাবা-মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ৩৪ শিশুকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনতে তিনি সহায়তা করেছেন বলে তাঁর কার্যালয় জানিয়েছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র পেসকভও ওলেশকিতে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগে মেলানিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ফোনালাপেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।
২০২২ সালে রুশ বাহিনীর দখলে যায় ওলেশকি
ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে দিনিপ্রো নদীর দক্ষিণ তীরে অবস্থিত ওলেশকি শহরটি ২০২২ সালে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে যায়। যুদ্ধের আগে শহরটিতে প্রায় ২৪ হাজার মানুষের বসবাস ছিল। বর্তমানে সেখানে আনুমানিক দুই হাজার মানুষ রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে শহরটির সাবেক বাসিন্দারা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছিলেন, রুশ ও ইউক্রেনীয় বাহিনীর লড়াইয়ের মধ্যে সাধারণ মানুষ আটকা পড়েছেন। পাশাপাশি খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকটের কথাও উঠে আসে তাঁদের বক্তব্যে।
এমন পরিস্থিতিতে ওলেশকিতে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয় ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স ও ফার্স্টপোস্ট।





















