০২:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ১০২ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:১৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৫৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং নামসর্বস্ব আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ১০২ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধা নিয়ে তা খোলা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ও লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের বিরুদ্ধে শুল্ক-কর ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সিআইসির অনুসন্ধানে দুই প্রতিষ্ঠানের মোট ১০২ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১২৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটিত হয়েছে। এর মধ্যে রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা এবং লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।

রিয়াজ নিটওয়্যারের গুদামে নেই ৭৮ শতাংশ কাপড়

সিআইসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) বিপরীতে বন্ড সুবিধায় ২ হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করে। তবে প্রতিষ্ঠানটির কারখানার গুদামে এসব কাপড়ের বড় একটি অংশ পাওয়া যায়নি।

হিসাব অনুযায়ী, আমদানি করা কাপড়ের প্রায় ৭৮ শতাংশ বা ২ হাজার ২৩৭ টন কাপড়ের কোনো অস্তিত্ব গুদামে পাওয়া যায়নি। সিআইসির ধারণা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে এসব কাপড় অবৈধভাবে সরিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করা হয়েছে।

এমনকি পুরো কারখানা প্রাঙ্গণে আমদানি করা কাপড়ের মাত্র ১ শতাংশেরও কম পাওয়া গেছে। এতে নামসর্বস্ব আমদানির মাধ্যমে গুদাম প্রায় শূন্য রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে।

অথচ কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই এসব ইউডির বিপরীতে প্রায় ৩৯০ টন কাপড় আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু অনুসন্ধানে আমদানি করা কাপড়ের বড় অংশের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

সিআইসির তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া এসব কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে।

লিশা টেক্সের বিরুদ্ধেও শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ

অন্যদিকে, লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের বিরুদ্ধেও বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে সিআইসি।

অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড় গুদামে পাওয়া যায়নি। এসব কাপড় খোলা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি কার্যক্রমেও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করলেও চুক্তিমূল্যের তুলনায় কম রপ্তানিমূল্য দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

পাশাপাশি ইউডির বাইরে স্থানীয় ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে কাঁচামাল সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্তও প্রতিষ্ঠানটি মানেনি বলে জানিয়েছে সিআইসি।

অনুমোদন ছাড়াই কাঁচামাল কেনা, মূসক ফাঁকি

লিশা টেক্সের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অনিয়মের তথ্য পেয়েছে সিআইসি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি চার লাখের বেশি পিস পোশাকের আনুষঙ্গিক কাঁচামাল অনুমোদন ছাড়াই স্থানীয় বাজার থেকে কিনেছে। এসব কেনাকাটার ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) পরিশোধের বাধ্যবাধকতাও মানা হয়নি।

এ ছাড়া লাইসেন্সবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কিট ব্যাগ সরবরাহের মাধ্যমে মূসক ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, আমদানি করা কাঁচামালের হিসাব গোপন, রপ্তানিমূল্যে অসংগতি এবং মূসকসংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলে সিআইসির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ১০২ কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি

আপডেট সময় : ১২:১৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার এবং নামসর্বস্ব আমদানি-রপ্তানির আড়ালে ১০২ কোটি ৫৭ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি)। রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুবিধা নিয়ে তা খোলা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ও লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের বিরুদ্ধে শুল্ক-কর ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) এনবিআরের জনসংযোগ দপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সিআইসির অনুসন্ধানে দুই প্রতিষ্ঠানের মোট ১০২ কোটি ৫৭ লাখ ১৩ হাজার ১২৮ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটিত হয়েছে। এর মধ্যে রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকা এবং লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৮৩ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮ টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে।

রিয়াজ নিটওয়্যারের গুদামে নেই ৭৮ শতাংশ কাপড়

সিআইসির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রিয়াজ নিটওয়্যার লিমিটেড ৪১টি ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশনের (ইউডি) বিপরীতে বন্ড সুবিধায় ২ হাজার ৮৬২ টন ওভেন পলিয়েস্টার কাপড় আমদানি করে। তবে প্রতিষ্ঠানটির কারখানার গুদামে এসব কাপড়ের বড় একটি অংশ পাওয়া যায়নি।

হিসাব অনুযায়ী, আমদানি করা কাপড়ের প্রায় ৭৮ শতাংশ বা ২ হাজার ২৩৭ টন কাপড়ের কোনো অস্তিত্ব গুদামে পাওয়া যায়নি। সিআইসির ধারণা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে এসব কাপড় অবৈধভাবে সরিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করা হয়েছে।

এমনকি পুরো কারখানা প্রাঙ্গণে আমদানি করা কাপড়ের মাত্র ১ শতাংশেরও কম পাওয়া গেছে। এতে নামসর্বস্ব আমদানির মাধ্যমে গুদাম প্রায় শূন্য রাখার বিষয়টি সামনে এসেছে।

অথচ কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই এসব ইউডির বিপরীতে প্রায় ৩৯০ টন কাপড় আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু অনুসন্ধানে আমদানি করা কাপড়ের বড় অংশের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

সিআইসির তথ্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া এসব কাপড়ের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ১৩৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির কাছে ৯৪ কোটি ৭৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭২০ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকির তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে।

লিশা টেক্সের বিরুদ্ধেও শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ

অন্যদিকে, লিশা টেক্স (প্রা.) লিমিটেডের বিরুদ্ধেও বন্ড সুবিধার অপব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে সিআইসি।

অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ১ লাখ ৭৪ হাজার কেজি পলিয়েস্টার কাপড় গুদামে পাওয়া যায়নি। এসব কাপড় খোলা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টাকার শুল্ক-কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির রপ্তানি কার্যক্রমেও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। অনুমোদিত পরিমাণের চেয়ে বেশি পোশাক রপ্তানি করলেও চুক্তিমূল্যের তুলনায় কম রপ্তানিমূল্য দেখিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

পাশাপাশি ইউডির বাইরে স্থানীয় ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে কাঁচামাল সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। বাধ্যতামূলক ২০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্তও প্রতিষ্ঠানটি মানেনি বলে জানিয়েছে সিআইসি।

অনুমোদন ছাড়াই কাঁচামাল কেনা, মূসক ফাঁকি

লিশা টেক্সের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অনিয়মের তথ্য পেয়েছে সিআইসি। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি চার লাখের বেশি পিস পোশাকের আনুষঙ্গিক কাঁচামাল অনুমোদন ছাড়াই স্থানীয় বাজার থেকে কিনেছে। এসব কেনাকাটার ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) পরিশোধের বাধ্যবাধকতাও মানা হয়নি।

এ ছাড়া লাইসেন্সবিহীন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার কিট ব্যাগ সরবরাহের মাধ্যমে মূসক ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সব মিলিয়ে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, আমদানি করা কাঁচামালের হিসাব গোপন, রপ্তানিমূল্যে অসংগতি এবং মূসকসংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমে দুই প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে বলে সিআইসির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।