০৭:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

অর্থপাচার করে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, লেবাননের নাগরিকের তথ্য চাইল আমিরাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৫:১১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৬৫ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অর্থপাচার করে বাংলাদেশে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের অভিযোগে অভিযুক্ত লেবাননের এক ব্যবসায়ীর বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে তথ্য চেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট অর্থপাচার মামলার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি নির্দিষ্ট ওই মামলার বর্তমান অবস্থা এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য জানতে চান। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ।

তিন বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ

মামলার নথি অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাতে অবস্থিত কোম্পানি রাকিয়ার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খাতের মাসাত দেশটি থেকে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থপাচার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পাচার করা অর্থের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। এগুলো হলো—মিরপুরের রাকিন সিটি, স্টার সিরামিক ও স্টার পোর্শলেইন।

অর্থপাচারের ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত খাতের মাসাতকে সাজা দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশও রয়েছে।

২০২১ সাল থেকে হাইকোর্টে শুনানি হয়নি

মামলার নথি ঘেঁটে জানা গেছে, বাংলাদেশে খাতের মাসাতের অর্থপাচার-সংক্রান্ত মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। ২০২১ সালের পর থেকে মামলাটির শুনানি হাইকোর্টে হয়নি বলে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে মামলার অগ্রগতি এবং বাংলাদেশের আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনগত সহযোগিতা এবং মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও আলোচনা হয়।

তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস

বৈঠক শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সহযোগিতার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে এই সহযোগিতা আরও গতিশীল করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে আমি রাষ্ট্রদূতকে বলেছি যে, সরকার ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউএইকে এবং আরএকেকে সহযোগিতা করার জন্য আমাদের যে উদ্যোগ, সেটা অব্যাহত থাকবে। সেটা আরও গতিশীল করা হবে।’

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি মামলার কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হবে।

বেনজীর আহমেদ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য নয়

এদিকে বৈঠক শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাংলাদেশে অর্থপাচার এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের বিনিয়োগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ জোরদার হয়েছে। এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা বিপুল অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিষয়ে তথ্য চাওয়ার ঘটনা দুই দেশের আইনগত সহযোগিতার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

অর্থপাচার করে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, লেবাননের নাগরিকের তথ্য চাইল আমিরাত

আপডেট সময় : ০৫:১১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অর্থপাচার করে বাংলাদেশে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের অভিযোগে অভিযুক্ত লেবাননের এক ব্যবসায়ীর বিষয়ে বাংলাদেশের কাছে তথ্য চেয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে গিয়ে সংশ্লিষ্ট অর্থপাচার মামলার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি নির্দিষ্ট ওই মামলার বর্তমান অবস্থা এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য জানতে চান। পরে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবে বাংলাদেশ।

তিন বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ

মামলার নথি অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাতে অবস্থিত কোম্পানি রাকিয়ার সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খাতের মাসাত দেশটি থেকে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থপাচার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পাচার করা অর্থের একটি বড় অংশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে। এগুলো হলো—মিরপুরের রাকিন সিটি, স্টার সিরামিক ও স্টার পোর্শলেইন।

অর্থপাচারের ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত খাতের মাসাতকে সাজা দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশও রয়েছে।

২০২১ সাল থেকে হাইকোর্টে শুনানি হয়নি

মামলার নথি ঘেঁটে জানা গেছে, বাংলাদেশে খাতের মাসাতের অর্থপাচার-সংক্রান্ত মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। ২০২১ সালের পর থেকে মামলাটির শুনানি হাইকোর্টে হয়নি বলে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে মামলার অগ্রগতি এবং বাংলাদেশের আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনগত সহযোগিতা এবং মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও আলোচনা হয়।

তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস

বৈঠক শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সহযোগিতার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে এই সহযোগিতা আরও গতিশীল করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে আমি রাষ্ট্রদূতকে বলেছি যে, সরকার ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইউএইকে এবং আরএকেকে সহযোগিতা করার জন্য আমাদের যে উদ্যোগ, সেটা অব্যাহত থাকবে। সেটা আরও গতিশীল করা হবে।’

অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মামলার প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি মামলার কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হবে।

বেনজীর আহমেদ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য নয়

এদিকে বৈঠক শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাংলাদেশে অর্থপাচার এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের বিনিয়োগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পর্যায়ে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ জোরদার হয়েছে। এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করা বিপুল অর্থের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলমান মামলার বিষয়ে তথ্য চাওয়ার ঘটনা দুই দেশের আইনগত সহযোগিতার বিষয়টিকে নতুন করে সামনে এনেছে।