অবসরের পর বিচারকদের পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন অযৌক্তিক: হাইকোর্ট
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৮ বার পড়া হয়েছে
অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের বাধ্যবাধকতা অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, দায়িত্ব পালনের সময় বিচারকদের পরিচয় ও মর্যাদা যাচাই করেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট দেওয়া হয়। তাই অবসরের পর সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবার গোয়েন্দা যাচাইয়ের মুখোমুখি করা অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন।
অতিরিক্ত গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন অবৈধ
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২ সেপ্টেম্বর এ রায় দেন। বুধবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।
রায়ে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীসহ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক ও তাদের স্ত্রীদের সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত গোয়েন্দা ভেরিফিকেশন করা যাবে না।
২০২৪ সালে জারি হয় নতুন নির্দেশনা
রিট আবেদনে বলা হয়, ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও তাদের স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্টের অধিকারী। অবসর বা পদত্যাগের পর তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিতে হয়। এরপর সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়।
এর আগে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে কোনো গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রয়োজন হতো না।
তবে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি স্মারক জারি করে। এতে কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণকারীদের সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার আগে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার সন্তোষজনক প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক করা হয়।
পাসপোর্ট না পাওয়ায় রিট
এই সিদ্ধান্তের কারণে সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী সমস্যায় পড়েন। তিনি ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন।
তবে গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ার কারণে তাকে পাসপোর্ট দেওয়া হয়নি। ফলে তিনি বিদেশ ভ্রমণ করতে পারেননি।
পরে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুমতি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের প্রোটোকল অফিসার মো. রোমান ভূঁইয়া এ প্রশাসনিক বাধাকে চ্যালেঞ্জ করেন।
এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। পরে আদালত রুল জারি করেন। সেই রুলের নিষ্পত্তি করে অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার বিষয়ে এই রায় দেওয়া হয়েছে।





















