সালমান শাহ হত্যা মামলা: ৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০১:৫৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে না পারায় নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই মামলায় সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নতুন করে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এরই মধ্যে তার মরদেহের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের বিষয়ে আদালতের অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
৫ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি।
এ কারণে আদালত আগামী ৫ নভেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। ওই দিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হলে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নিয়ে আদালত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তার মরদেহের দেহাবশেষ কবর থেকে উত্তোলনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেহাবশেষ উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। পরে ২৪ মে আদালত দেহাবশেষ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন।
তবে আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ আপত্তি জানায়। তারা দেহাবশেষ উত্তোলনের আদেশ বাতিলের আবেদন করে। আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন।
এরপর গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
১৯৯৬ সালে সালমান শাহর মৃত্যু
চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন চলচ্চিত্র অঙ্গনে সালমান শাহ নামে পরিচিত ছিলেন। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় তার মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর পর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। তখন সালমান শাহর মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তার বাবা। আদালতের নির্দেশে অপমৃত্যু ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির তদন্তে আত্মহত্যার উল্লেখ
দীর্ঘ তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পরে ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালত সিআইডির প্রতিবেদন গ্রহণ করেন। তবে এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট ছিল না সালমান শাহর পরিবার।
প্রতিবেদনে আপত্তি জানিয়ে সালমান শাহর বাবা আদালতে রিভিশন মামলা করেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যায়।
হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ
সবশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালত মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।
তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলায় ১১ আসামি
মামলার এজাহারে সামীরা হক ছাড়াও শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদের নাম রয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় এসব ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়গুলো যাচাই করা হবে।
মৃত্যুর দিনের ঘটনায় বাদীপক্ষের অভিযোগ
মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর নিউ ইস্কাটনের বাসায় তার মা নীলা চৌধুরী, বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ যান।
সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, সালমান ঘুমিয়ে আছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের কিছু হয়েছে বলে জানান।
এরপর পরিবারের সদস্যরা শয়নকক্ষে গিয়ে সালমান শাহকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। অভিযোগে বলা হয়েছে, তখন কয়েকজন নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন।
পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। বাদীপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পথে সালমান শাহর গলায় দড়ির দাগ এবং মুখ ও পায়ে নীলচে দাগ দেখা যায়।
প্রথমে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে নজর
সালমান শাহর মৃত্যুর পর প্রায় তিন দশক ধরে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রথমদিকে এটি অপমৃত্যু হিসেবে তদন্ত করা হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়।
সিআইডির প্রতিবেদনে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও বাদীপক্ষ ওই প্রতিবেদনে আপত্তি জানায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বর্তমানে নতুন তদন্তে মৃত্যুর ঘটনাসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য, নথি ও আলামত যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেহাবশেষ উত্তোলন ও ময়নাতদন্তের বিষয়টিও তদন্তের অংশ।
আদালতের সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী, আগামী ৫ নভেম্বর সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। ওই প্রতিবেদনে তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত ও মামলার অভিযোগ সম্পর্কে কী বলা হয়, সেদিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
প্রতিবেদন দাখিলের পর মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সম্পর্কে আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।


























