শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপনেই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্ভব: জিয়াউদ্দিন হায়দার
- আপডেট সময় : ০৪:২৭:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৯১ বার পড়া হয়েছে
শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং এ রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। একই সঙ্গে ঝালকাঠি ডায়াবেটিক হাসপাতালের উন্নয়নে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ঝালকাঠি ডায়াবেটিক সমিতির আয়োজনে সমিতির সভাকক্ষে নির্মাণাধীন সৈয়দ মোয়াজ্জেম জেনারেল ও ডায়াবেটিক হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ
ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তবে আক্রান্তদের একটি বড় অংশ জানেন না যে তাঁরা এ রোগে ভুগছেন। ফলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, রোগের জটিলতা দেখা দেওয়ার আগেই ডায়াবেটিস শনাক্ত করা গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এ জন্য মানুষকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে উৎসাহিত করতে হবে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ‘থ্রি ডি’র গুরুত্ব
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ‘থ্রি ডি’ বা তিনটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ সহকারী। এগুলো হলো ডিসিপ্লিন (শৃঙ্খলা), ডায়েট (সুষম খাদ্যাভ্যাস) ও ড্রাগ (চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ)।
তিনি বলেন, নিয়ম মেনে চলা, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা এ রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।
তাঁর মতে, শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজকেও এ বিষয়ে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সরকার স্বাস্থ্যসেবাকে আরও প্রতিরোধমূলক ও জনমুখী করতে চায়।
তিনি বলেন, শুধু রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ দেশে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশ অসংক্রামক রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং মানুষকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে তোলা প্রয়োজন।
ঝালকাঠি ডায়াবেটিক হাসপাতালের উন্নয়নে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ
ঝালকাঠি ডায়াবেটিক হাসপাতালের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, হাসপাতালটির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে কাজ করা হবে। এ জন্য তিনি হাসপাতালটির উন্নয়নে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন।
একই সঙ্গে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রমে আরও বেশি মানুষকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন যারা
ঝালকাঠি ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি মো. হেমায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন, পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সৈয়দ হোসেন এবং ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো. আককাস সিকদার।
এ সময় ঝালকাঠি ডায়াবেটিক সমিতির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।

























