লুপাসে আক্রান্ত সেলেনা গোমেজ, ভেপিংয়ের কারণে বদলে গেছে কণ্ঠস্বর
- আপডেট সময় : ০৩:৩২:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫০ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন সংগীতশিল্পী ও অভিনেত্রী সেলেনা গোমেজ জানিয়েছেন, অতিরিক্ত নিকোটিন ভেপিংয়ের কারণে তাঁর কণ্ঠস্বরের ধরন বদলে গেছে। আগের মতো কণ্ঠস্বর আর ফিরে পাবেন কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই তারকা। দীর্ঘদিন ধরে লুপাস রোগে ভোগা সেলেনা এর আগে জানিয়েছিলেন, রোগটির কারণেও তাঁর গলায় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৪ বছর বয়সী সেলেনা গত রোববার (১৮ অক্টোবর) ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে নিজের কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমার গলার স্বর আর আগের মতো ঠিক করতে পারব না। আমি প্রচুর নিকোটিন ভেপ করেছি।”
ভেপিংয়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সেলেনা আরও বলেন, নিকোটিন ছেড়ে দেওয়া খুবই কঠিন। যারা নতুন করে ভেপিং শুরু করার কথা ভাবছেন, তাঁদের এ অভ্যাস থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সেলেনার ভাষায়, এটি ভালো অভ্যাস নয়। এর কারণে তাঁর কণ্ঠস্বর বদলে গেছে বলে তিনি মনে করেন। নিজের বর্তমান কণ্ঠস্বর নিয়ে সমালোচনা হলেও তাতে আপত্তি নেই বলেও জানিয়েছেন এই সংগীতশিল্পী।
লুপাস রোগেও ভুগছেন সেলেনা
সেলেনা গোমেজ দীর্ঘদিন ধরে অটোইমিউন রোগ লুপাসে ভুগছেন। এ রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা ভুল করে নিজের সুস্থ কোষ ও টিস্যুকে আক্রমণ করে। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে প্রদাহ ও নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এর আগে গলার সমস্যা নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন সেলেনা। গত ডিসেম্বরে ইনস্টাগ্রামে ভক্তদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মাঝেমধ্যে তাঁর গলায় অদ্ভুত সমস্যা হয়। কখনো কখনো গলার ভেতরের অংশ ফুলে যায় বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
তবে তাঁর কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনের পেছনে ভেপিং ও লুপাসের পৃথক ভূমিকা কতটা, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। সেলেনার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ভেপিংকে কণ্ঠস্বর বদলে যাওয়ার একটি কারণ হিসেবে দেখছেন।
কিডনি প্রতিস্থাপন ও লুপাসের চিকিৎসা
২০১৭ সালে সেলেনার বন্ধু ফ্রান্সিয়া রাইসা তাঁকে নিজের একটি কিডনি দান করেন। লুপাসের জটিলতার কারণে সেলেনার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিডনি প্রতিস্থাপনের পর তাঁর চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে।
তবে পরবর্তী সময়ে রোগটি আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২০২২ সালে প্রকাশিত তথ্যচিত্র সেলেনা গোমেজ: মাই মাইন্ড অ্যান্ড মি-তে নিজের অসুস্থতা ও মানসিক সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন তিনি।
সেলেনা জানান, তাঁর লুপাস শনাক্ত হওয়ার পর কেমোথেরাপিও নিতে হয়েছিল। শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠার জন্যও তাঁকে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে।
লুপাস রোগের লক্ষণ কী?
লুপাসের লক্ষণ ব্যক্তি ও রোগের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
-
হাত-পায়ের জয়েন্টে ব্যথা ও ফোলা
-
জ্বর ও ত্বকে ফুসকুড়ি
-
বুকে ব্যথা
-
চুল পড়া
-
কিডনির সমস্যা
-
দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান ও ভেপিং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। নিকোটিন আসক্তি তৈরি করতে পারে। তবে সেলেনার ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বরের পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ নির্ধারণে চিকিৎসকের মূল্যায়ন প্রয়োজন।

























