যশোরের শার্শা থানা পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধ দমনে সক্রিয় পুলিশ
- আপডেট সময় : ১১:৫৩:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৬৭ বার পড়া হয়েছে
সীমান্তবর্তী যশোরের শার্শা উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে শার্শা থানা পুলিশ।
গত এক মাসেরও বেশি সময়ে পরিচালিত এসব অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার, মাদক উদ্ধার এবং নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে শার্শা পুলিশ
যশোরের শার্শা থানা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ জুন থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন বিশেষ অভিযানে মোট ৮৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত ৩৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১১ জন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি, যারা দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন।
মাদক নির্মূলে পরিচালিত পৃথক অভিযানে ২৭টি মাদক মামলায় ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ৬৮০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ হাজার ১৮৪ বোতল এস্কাফ কফ সিরাপ এবং ৭১০ গ্রাম গাঁজা। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে ২ জন এবং ধর্ষণ মামলায় ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ১ জনকে ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বিভিন্ন ধরনের অন্যান্য অপরাধে আরও ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে আলোচ্য সময়ে পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত কোনো মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যশোরের শার্শা থানা সীমান্তঘেঁষা শার্শা উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই মাদক আসছে ভারত থেকে চোরাচালান এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধের ঝুঁকিপূর্ণ এই এলাকা হিসেবে পরিচিত। এ বাস্তবতায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, চেকপোস্টে তল্লাশি জোরদার এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শার্শা থানা পুলিশের দাবি, অপরাধ দমনে শুধু অভিযান নয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও জনসমাগমস্থলে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে অপরাধ প্রতিরোধে কাজ করছে পুলিশ।
এ বিষয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।
ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার, মাদক নির্মূল, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে শার্শা থানা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
অপরাধী যে-ই হোক, কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের সহযোগিতা নিয়েই একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত শার্শা গড়ে তুলতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অপরাধ বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান




















