ব্রাজিল-উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজন করে আর্থিক সংকটে ভারত
- আপডেট সময় : ১১:৩০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪২ বার পড়া হয়েছে
ঘরের মাঠে ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মতো বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তিকে এনে আলোচনায় এসেছিল ভারত। এই আয়োজনের অংশ ছিল পানামাও। তবে বড় দলগুলোর বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে গিয়ে এবার বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ)। পরিস্থিতি সামাল দিতে ফেডারেশনের স্থায়ী আমানত (এফডি) ভাঙার প্রস্তাব দিয়েছেন সভাপতি কল্যাণ চৌবে। তবে সদস্যদের বিরোধিতায় আপাতত আটকে গেছে সেই উদ্যোগ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এআইএফএফের বিশেষ সাধারণ সভায় (এসজিবিএম) আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের ব্যয় মেটাতে স্থায়ী আমানত ভাঙার প্রস্তাব দেন কল্যাণ চৌবে। তবে সভায় উপস্থিত অধিকাংশ সদস্য এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন।
এ বিষয়ে একটি রাজ্য ফুটবল সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের কারণে যে আর্থিক ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে এআইএফএফের স্থায়ী আমানত ভাঙতে চান সভাপতি।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে কল্যাণ চৌবে আশ্বস্ত করেন, বাইরের উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে স্থায়ী আমানত থেকে তোলা টাকা আবার ফেরত দেওয়া হবে। তবে ফেডারেশনের আর্থিক ঘাটতির সঠিক পরিমাণ সভায় প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তির গোপনীয়তার শর্তের কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
স্থায়ী আমানত ভাঙার প্রস্তাবে আপত্তি
সভায় কল্যাণ চৌবের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন এআইএফএফের সহসভাপতি এনএ হারিস। তাঁর যুক্তি, ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থায়ী আমানত ভাঙার সুযোগ নেই।
শুধু সহসভাপতিই নন, সভায় উপস্থিত অন্য সদস্যরাও এ বিষয়ে আপত্তি জানান। তাঁদের মতে, বিশেষ কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি না হলে ফেডারেশনের স্থায়ী আমানতের অর্থ ব্যবহার করা উচিত নয়।
ফলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের ব্যয় মেটাতে আপাতত বিকল্প অর্থের উৎস খুঁজতে হবে এআইএফএফকে।
তিন ম্যাচ আয়োজনেই খরচ ৮৫ কোটি রুপি
ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার বিপক্ষে তিনটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করতে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ কোটি রুপি খরচ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অথচ এর আগে কল্যাণ চৌবে দাবি করেছিলেন, এই তিনটি ম্যাচ আয়োজনের জন্য ফেডারেশনকে কোনো আর্থিক দায় বহন করতে হবে না। কিন্তু এখন সেই আয়োজনের খরচ মেটাতে স্থায়ী আমানত ভাঙার প্রস্তাব পরিস্থিতিকে ভিন্ন দিকে নিয়ে গেছে।
বিশেষ করে ম্যাচ আয়োজনের আগে দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি হয়েছে। ফলে বড় দলকে এনে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলোচনায় আসার পাশাপাশি ভারতের ফুটবল প্রশাসনকে এখন বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।
আর্থিক ঘাটতি কতটা এবং কীভাবে তা পূরণ করা হবে, সেটিই এখন ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সামনে বড় প্রশ্ন।
























