বৈদেশিক কর্মসংস্থানে ১ লাখ আনসার-ভিডিপি সদস্যকে দক্ষ করার উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ০১:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে প্রাথমিকভাবে এক লাখ আনসার-ভিডিপি সদস্যকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ তৈরিতে কাজ করছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সফিপুরে অবস্থিত আনসার-ভিডিপি একাডেমিসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে সদস্যদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সদস্যদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
যেসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে
আনসার-ভিডিপি সদস্যদের জন্য বিভিন্ন চাহিদাসম্পন্ন পেশায় প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
-
৬জি ওয়েল্ডিং ও নির্মাণকাজ
-
ড্রাইভিং
-
গার্মেন্টস ও পোশাকশিল্প
-
হসপিটালিটি ও শেফ ট্রেনিং
-
সৌরবিদ্যুৎ ও সবুজ জ্বালানি
-
তথ্যপ্রযুক্তি
-
জাপানি ভাষা শিক্ষা
এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সদস্যরা দেশীয় শিল্প ও সেবা খাতের পাশাপাশি বিদেশেও কাজের সুযোগ পাবেন বলে আশা করছে বাহিনী।
ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ ও মরক্কোসহ চারটি দেশের প্রতিনিধিদল সফিপুরের আনসার-ভিডিপি একাডেমির দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে।
বিদেশে পাঠানোর আগে যাচাই করা হবে কর্মপরিবেশ
এ বিষয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বেতন কাঠামো, কর্মপরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার মান যাচাই করা হবে।
তিনি জানান, যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রশিক্ষিত সদস্যদের বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য পাঠানো হবে।
মহাপরিচালক আরও বলেন, বাহিনীর ৬০ লাখের বেশি সদস্যের জীবনমান উন্নয়নে বৈদেশিক কর্মসংস্থানকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ সক্ষমতা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জাপানের শীর্ষস্থানীয় কর্মসংস্থান প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রশিক্ষিত জনবল প্রস্তুত করা হচ্ছে।
রিক্রুটিং লাইসেন্স পেয়ে শুরু হয়েছে বিদেশে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় আনসার-ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টকে রিক্রুটিং লাইসেন্স অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে প্রশিক্ষিত নারী ও পুরুষ সদস্যদের প্রথম ধাপে বিদেশে পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষতা ও পেশাগত মান নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীন ১০৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) সঙ্গে আনসার-ভিডিপির দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নের কাজ করা হবে।
ডিজিটাল ডেটাবেজে থাকবে কর্মপ্রত্যাশীদের তথ্য
বিদেশে কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েছে বাহিনী। নব উদ্বোধিত ডিজিটাল ডেটাবেজ বিএমইটির সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এতে প্রশিক্ষণার্থী ও বিদেশে যেতে আগ্রহী সদস্যদের তথ্য সংরক্ষণ এবং যাচাই করা সহজ হবে।
পাশাপাশি নিজস্ব কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট (সিআরএম) প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশে কর্মরত সদস্যদের সার্বক্ষণিক সেবা ও নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।
এ ছাড়া বাহিনীর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘প্রান্তিক শক্তি লিমিটেড’-এর মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থান কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে আনুষ্ঠানিকভাবে রিক্রুটিং লাইসেন্স হস্তান্তর করা হয়েছে।
জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত চুক্তি ও অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার আলোচনাও চলছে। একই সঙ্গে নিজস্ব বায়োমেট্রিক ও ডিজিটাল ডেটাবেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, এ উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি নয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ, আত্মনির্ভর ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদ গড়ে তোলাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সদস্যদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্প ও সেবা খাতের দক্ষ কর্মীর চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও কল্যাণে বহুমুখী ভূমিকা পালনের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে আরও বড় অবদান রাখতে চায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।




















