বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের শাহাদত বার্ষিকী পালিত
- আপডেট সময় : ০৪:০৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
যশোরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫তম শাহাদত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শার্শা উপজেলার কাশিপুরে তাঁর স্মৃতিস্তম্ভে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দিনটি উপলক্ষে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্থানীয় প্রশাসন, বিজিবি, পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। কর্মসূচিতে তাঁর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করা হয়।
কাশিপুরে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা
শার্শা উপজেলার কাশিপুরে অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্মৃতিস্তম্ভে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। শুরুতেই ৪৯ বিজিবির পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
এরপর স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর ফাতেহা পাঠ করা হয়। পরে তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী এই বীর মুক্তিযোদ্ধার জন্য দোয়া করা হয়।
উপস্থিত ছিলেন বিজিবির কর্মকর্তারা
শাহাদত বার্ষিকীর কর্মসূচিতে ৪৯ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর নূর উদ্দিন আহমাদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সহকারী পরিচালক মো. মাছেদুল ইসলাম খাঁনসহ বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের পরিবারের সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে যোগ দেন।
স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে উপস্থিত সবাই বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের বীরত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁর আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম ও সাহসের অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়।
মুক্তিযুদ্ধে অনন্য বীরত্ব
বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সাহসী যোদ্ধা। ১৯৭১ সালে দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি জীবন উৎসর্গ করেন।
মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অসীম সাহস, দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগ তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’-এর মর্যাদা এনে দেয়। তাঁর বীরত্বগাথা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গভীরভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর আত্মত্যাগ জাতির কাছে চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রতি বছর তাঁর শাহাদত বার্ষিকীতে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
তবারক বিতরণ
মোনাজাত শেষে উপস্থিত সবার মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়। এ সময় বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
উপস্থিত সবাই তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং দেশের জন্য তাঁর আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।

























