পোশাকশিল্পে অস্থিরতার পেছনে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা শফিকুর রহমানের
- আপডেট সময় : ১২:৪৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫১ বার পড়া হয়েছে
দেশের পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতার পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের অপচেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন জামায়াতের আমীর।
পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতা, কারখানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি বলেন, কোনো মালিক কিংবা শ্রমিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না। তাই কোনো শ্রমিকেরই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ানো উচিত নয়।
ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান
ফেসবুক পোস্টে শফিকুর রহমান আরও বলেন, ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা পরিস্থিতি উসকে দিয়ে দেশের পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে বলে মনে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
তার মতে, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো ঘটনা শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
প্রায় ৬০০ কারখানা বন্ধের তথ্য
পোশাকশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াত আমীর জানান, ইতোমধ্যে প্রায় ৬০০টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্প খাত নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
তিনি বলেন, সামনে শীত মৌসুম। এ সময় পোশাকশিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে ঠিক এই সময়ে শিল্প খাতে অস্থিরতা তৈরি হওয়া উদ্বেগজনক।
শীত মৌসুমকে সামনে রেখে পোশাকশিল্পে যে সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কথা, তা ধ্বংস করার পেছনে গভীর কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
মালিক-শ্রমিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান
এ পরিস্থিতিতে দেশের পোশাকশিল্পের স্বার্থ রক্ষায় মালিক, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন শফিকুর রহমান।
তিনি মনে করেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে শিল্প খাতের অস্থিরতা দূর করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস পোশাকশিল্প। তাই এ খাতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।



















