পরিকল্পিত নগরায়ণে মাস্টারপ্ল্যানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:৪৬:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
পরিকল্পিত নগরায়ণ ও সবার জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি জেলা ও সিটি করপোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শহর ও নগরগুলোতে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। দেশের অন্যান্য শহরেও প্রায় একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি বলেন, ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাটি বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহরাঞ্চলে সব মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে পরিকল্পিত নগরায়ণ করতে হবে।
সবার জন্য আবাসন নিশ্চিতের উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বাস্তবতায় সর্বজনীন বাসস্থান ও টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করা সহজ নয়। তবে এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।
সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত বাসস্থান এবং মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থা করাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
প্রতিটি জেলা ও সিটি করপোরেশনে মাস্টারপ্ল্যান
প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
তিনি বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নগরগুলোর ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ, আবাসন, যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবেশ ও নাগরিক সেবাকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনা হবে।
ইতোমধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে বলেও জানান সরকারপ্রধান।
তার মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলা সম্ভব হবে। পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর লক্ষ্য অর্জনও সহজ হবে।
আবাসন মেলার উদ্বোধন
অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর সব কার্যক্রমের সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি আবাসন মেলার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বক্তব্য দেন।
এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





















