০৩:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

টেকনাফে নিহত সেনাসদস্য তিতাসের বাড়িতে শোকের মাতম

ফরিদপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৬৪ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে নিহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা-বাবা। অন্যদিকে স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্ত্রী। চার বছরের সংসারজীবনে একসঙ্গে থাকার অনেক স্বপ্ন ছিল তাঁদের। তবে সন্ত্রাসীদের একটি বুলেটেই থেমে গেল তিতাসের জীবন।

কান্নায় ভারী গ্রামের বাড়ির পরিবেশ

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে তিতাস শেখের বাড়িতে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ। প্রিয়জনের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ বাবা আফজাল শেখ। কথা বলার শক্তিও যেন হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। চোখ বেয়ে শুধু অশ্রু ঝরছে। অন্যদিকে সন্তান হারানোর বেদনায় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা রেখা বেগম। স্বজনরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনোভাবেই থামছে না মায়ের কান্না।

স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্ত্রী

এদিকে স্বামীকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। চার বছরের সংসারজীবনের স্মৃতি এখন তাঁর কাছে শুধুই বেদনার। স্বামীকে ঘিরে সাজানো ভবিষ্যৎ মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় তিতাসের। তবে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে এখনো কোনো সন্তান আসেনি। চাকরির কারণে বেশিরভাগ সময় কর্মস্থলে থাকতে হতো তিতাসকে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তিতাসের। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ছিল নতুন করে একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। তার আগেই সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারালেন ২৭ বছর বয়সী এই সেনাসদস্য।

মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনরা

পরিবারের সদস্যরা জানান, তিতাসের মরদেহ এখনো রামুতে রয়েছে। মরদেহ আনতে সেখানে গেছেন তাঁর ছোট ভাই। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে প্রিয়জনের শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। প্রতিবেশীরাও ভিড় করছেন তিতাসের বাড়িতে। সবাই পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

যৌথবাহিনীর অভিযানচলাকালে নিহত হন তিতাস

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছিল। এ সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে গুরুতর আহত হন সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখ (২৭)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী।

তবে অভিযানে ৫৭ জনকে উদ্ধারের সাফল্যের মধ্যেও তিতাসের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবার ও এলাকায়। যে বাড়িতে ছিল নতুন করে সংসার সাজানোর স্বপ্ন, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষা।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

টেকনাফে নিহত সেনাসদস্য তিতাসের বাড়িতে শোকের মাতম

আপডেট সময় : ০১:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে নিহত সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা-বাবা। অন্যদিকে স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্ত্রী। চার বছরের সংসারজীবনে একসঙ্গে থাকার অনেক স্বপ্ন ছিল তাঁদের। তবে সন্ত্রাসীদের একটি বুলেটেই থেমে গেল তিতাসের জীবন।

কান্নায় ভারী গ্রামের বাড়ির পরিবেশ

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে তিতাস শেখের বাড়িতে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ। প্রিয়জনের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না কেউই।

ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ বাবা আফজাল শেখ। কথা বলার শক্তিও যেন হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। চোখ বেয়ে শুধু অশ্রু ঝরছে। অন্যদিকে সন্তান হারানোর বেদনায় বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন মা রেখা বেগম। স্বজনরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু কোনোভাবেই থামছে না মায়ের কান্না।

স্বামীকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ স্ত্রী

এদিকে স্বামীকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার। চার বছরের সংসারজীবনের স্মৃতি এখন তাঁর কাছে শুধুই বেদনার। স্বামীকে ঘিরে সাজানো ভবিষ্যৎ মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে পার্শ্ববর্তী গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় তিতাসের। তবে তাঁদের দাম্পত্য জীবনে এখনো কোনো সন্তান আসেনি। চাকরির কারণে বেশিরভাগ সময় কর্মস্থলে থাকতে হতো তিতাসকে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তিতাসের। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ছিল নতুন করে একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। তার আগেই সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারালেন ২৭ বছর বয়সী এই সেনাসদস্য।

মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনরা

পরিবারের সদস্যরা জানান, তিতাসের মরদেহ এখনো রামুতে রয়েছে। মরদেহ আনতে সেখানে গেছেন তাঁর ছোট ভাই। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে প্রিয়জনের শেষ বিদায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। প্রতিবেশীরাও ভিড় করছেন তিতাসের বাড়িতে। সবাই পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

যৌথবাহিনীর অভিযানচলাকালে নিহত হন তিতাস

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান চলছিল। এ সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে গুরুতর আহত হন সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখ (২৭)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী।

তবে অভিযানে ৫৭ জনকে উদ্ধারের সাফল্যের মধ্যেও তিতাসের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবার ও এলাকায়। যে বাড়িতে ছিল নতুন করে সংসার সাজানোর স্বপ্ন, সেখানে এখন শুধুই কান্না আর প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষা।