জুলাইয়ে হত্যাযজ্ঞ: মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড
- আপডেট সময় : ১২:৫৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪১ বার পড়া হয়েছে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই মামলায় কুষ্টিয়া জেলা ও শহর আওয়ামী লীগের আরও তিন নেতাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
বিচারিক প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
হানিফসহ চার আসামির বিরুদ্ধে রায়
মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। মামলার চার আসামিই পলাতক রয়েছেন।
রায় ঘোষণার সময় বিচারপতি নজরুল ইসলাম প্রথমে সংক্ষিপ্ত রায়ের অংশ পাঠ করেন। পরে আসামিদের কার কী সাজা হয়েছে, তা ঘোষণা করেন।
পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন আমির হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামসহ প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, জহিরুল আমিনসহ অন্যরা।
তিন অভিযোগে বিচার
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও দমন-পীড়নের অভিযোগে এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দমনে মাহবুবউল আলম হানিফ উসকানি, প্ররোচনা ও সহায়তা দিয়েছেন। দ্বিতীয় অভিযোগে কুষ্টিয়ায় আন্দোলন দমনে সর্বোচ্চ বল প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
তৃতীয় অভিযোগটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় চার নেতার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটির বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের অপেক্ষায় ছিল মামলা
গত ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি এবং পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। সেদিন ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে ২৭ অক্টোবর রায় ঘোষণার জন্য ২৯ অক্টোবর তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
নির্ধারিত দিনেই ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এই রায় মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





















