জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, তিন উপসচিবকে ওএসডি
- আপডেট সময় : ০১:০১:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার মুখে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে তিন উপসচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
ওএসডি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন জামালপুর জোনের জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার মো. তোফাজ্জল হোসেন, বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) পরিচালক রকিবুর রহমান খান এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের সচিব নাহিদা বারিক।
তিনজনই ২৯তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছিলেন। সরকারি নথিতে তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পাওয়ার তথ্য থাকলেও দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। সংস্থাটির অনুসন্ধান অনুযায়ী, বিসিএস পরীক্ষার সময় তাঁদের কেউই মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রার্থী হিসেবে আবেদন করেননি।
দুদকের অনুসন্ধানে ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রমাণ
দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে কোটা জালিয়াতির অভিযোগে তিন উপসচিবসহ মোট ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুদক। বাকি তিন কর্মকর্তা বর্তমানে অন্য ক্যাডারে কর্মরত রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন। সেই মামলার ধারাবাহিকতায় এবার তিন উপসচিবের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, নথিপত্রে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে পরস্পর যোগসাজশ করে ছয় প্রার্থীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
চূড়ান্ত ফল প্রকাশের ছয় মাস পর নিয়োগের অভিযোগ
দুদকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের প্রায় ছয় মাস পর ওই ছয় প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের প্রশাসন, পুলিশ, পরিবার পরিকল্পনা ও সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে বিসিএস পরীক্ষার সময় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের কেউ ওই কোটায় আবেদন না করায় নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
দুদকের তদন্তে এসব অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাশাপাশি তিন উপসচিবকে ওএসডি করার মাধ্যমে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
তদন্ত ও মামলার পরবর্তী পদক্ষেপের অপেক্ষা
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার অপব্যবহার এবং নিয়োগসংক্রান্ত নথিতে জালিয়াতির অভিযোগটি প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও কোটাসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।
তবে ওএসডি করা প্রশাসনিক পদক্ষেপ; এটি নিজে কোনো ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সমতুল্য নয়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।





















