ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলো পুলিশ
- আপডেট সময় : ১২:৩৬:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৭১ বার পড়া হয়েছে
ক্রসফায়ার নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার অর্থে শব্দটি ব্যবহার করেননি।
এর আগে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপির বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। এরপরই এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে পুলিশ সদর দপ্তর।
আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দ
পুলিশ সদর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইজিপির বক্তব্যে ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদ ও শিরোনাম কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ তুলে ধরতেই এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আইজিপি মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এ সময় আইন প্রয়োগে কঠোর অবস্থান বোঝাতে তিনি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন করা কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।
চলতি বছরে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলা
বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ পুলিশকে রাষ্ট্রের প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরাধ দমন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব বলে জানানো হয়।
পুলিশ সদর দপ্তর বলেছে, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের কখনো কখনো অপরাধী, সংঘবদ্ধ হামলাকারী ও আইন অমান্যকারীদের সরাসরি আক্রমণ বা প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধী গ্রেপ্তার, অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ ও সরকারি দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে দেশের প্রচলিত কয়েকটি আইনের কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১।
সাংবাদিকদের বিষয়ে বক্তব্য নিয়েও ব্যাখ্যা
একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপির মন্তব্য নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপি ঢালাও কোনো মন্তব্য করতে চাননি। এ ক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য অসাবধানতাবশত হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানায়, মানবাধিকার সমুন্নত রাখা, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আইজিপির বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের পর পুলিশ সদর দপ্তরের এই ব্যাখ্যায় ক্রসফায়ার ও সাংবাদিকদের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।





















