এআইয়ের উত্থানে বিশ্বে বিলিয়নিয়ার বেড়ে রেকর্ড ৩৭৯৫ জন
- আপডেট সময় : ০৫:৪৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৭ বার পড়া হয়েছে
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে সম্পদ সৃষ্টির গতিও বেড়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালে বিশ্বে শতকোটিপতির সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ৩ হাজার ৭৯৫ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে তাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণও রেকর্ড ১৫ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সম্পদবিষয়ক তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান আলট্রাটার সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে বিশ্বে বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা বেড়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ বার্ষিক প্রবৃদ্ধি। একই সময়ে তাদের সম্মিলিত সম্পদ বেড়েছে ১২ দশমিক ৮ শতাংশ।
আলট্রাটা বলছে, বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ এআই খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক উত্থান। গুগলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ, টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক এবং অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মতো ধনকুবেররা এআই বিনিয়োগের ফলে আরও সম্পদশালী হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে বিশ্বের বিলিয়নিয়ারদের সম্মিলিত সম্পদ এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে থাকা কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান। এ ছাড়া ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদের মালিক ‘সুপারবিলিয়নিয়ার’-এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ জনে।
ক্রীড়া দলেও বাড়ছে বিলিয়নিয়ারদের বিনিয়োগ
বিলিয়নিয়ারদের অন্যতম বড় আগ্রহ এখন ক্রীড়া দল ও ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা। আলট্রাটার হিসাবে, বর্তমানে প্রায় ২০১ জন বিলিয়নিয়ার কোনো না কোনো ক্রীড়া দল বা ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানায় অংশীদার। এ সংখ্যা মোট বিলিয়নিয়ারের ৫ শতাংশের কিছু বেশি।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, ক্রীড়া দলের মালিকানা শুধু বিনোদন বা সম্পদ প্রদর্শনের বিষয় নয়। এর মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির সুযোগও তৈরি হয়।
এ ক্ষেত্রে জেফ বেজোসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রতিবেদনে তাকে বিশ্বের তৃতীয় ধনী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৮২ বিলিয়ন ডলার। চলতি সপ্তাহের শুরুতে বেজোসের কনসোর্টিয়াম ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুল এফসিতে প্রায় ৪০ শতাংশ অংশীদারত্ব কিনেছে।
এর আগে তেল ও গ্যাস ব্যবসায়ী জেরি জোন্স ১৯৮৯ সালে এনএফএলের ডালাস কাউবয়েজ কিনেছিলেন। ১৯৯৪ সালে রবার্ট ক্রাফট নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টস এবং স্টিভ বলমার লস অ্যাঞ্জেলেস ক্লিপার্স কিনে ক্রীড়া দল মালিকানার তালিকায় যুক্ত হন। ২০০৫ সালে ম্যালকম গ্লেজার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এফসিতে বড় বিনিয়োগ করেন।
জনকল্যাণেও বিলিয়নিয়ারদের অর্থ ব্যয়
ক্রীড়া বিনিয়োগের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কাজেও বিলিয়নিয়ারদের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। স্টিভ বলমার ও তার স্ত্রী কনি গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের দরিদ্র শিশু ও পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি দান করেছেন।
অন্যদিকে নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফট স্বাস্থ্যসেবা, কারাগার সংস্কার এবং ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলাসহ বিভিন্ন খাতে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি দান করেছেন।
আলট্রাটার তথ্য অনুযায়ী, বিলিয়নিয়াররা গত এক দশকে সুপারইয়ট, বিলাসবহুল ঘড়ি, শিল্পকর্ম ও ক্রীড়া দলের মতো ‘প্যাশন অ্যাসেট’-এ বিনিয়োগ করে গড়ে বছরে ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ হারে সম্পদ বাড়িয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রীড়া সম্প্রচারস্বত্ব, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম, বেটিং সেবা ও স্পনসরশিপ থেকে আয় বাড়ায় ক্রীড়া লিগগুলো এখন বিপুল অর্থের মালিক বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
এদিকে ক্লিভল্যান্ড ক্যাভালিয়ার্সের মালিক ড্যান গিলবার্ট ডেট্রয়েট শহরের প্রাণকেন্দ্র পুনরুজ্জীবিত করতে শত শত মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন। এর মধ্যে নিম্নআয়ের বাড়ির মালিকদের সম্পত্তি করের ঋণ কমানোর উদ্যোগও রয়েছে।


























