সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ২৬৮ রানে পিছিয়ে বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৬:২৭:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬৩ বার পড়া হয়েছে
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ক্যারিবীয়দের প্রথম ইনিংস ৩৫৬ রানে গুটিয়ে দিয়েছে স্বাগতিকরা। তবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দিন শেষে ৪০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান সংগ্রহ করেছে দল।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের হয়ে তাওহিদ হৃদয় ২৯ এবং মুশফিকুর রহিম ১৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন। তৃতীয় দিন এই দুই ব্যাটারের ওপরই অনেকটা নির্ভর করবে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ভবিষ্যৎ।
হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিং
দিনের শুরুতে আগের দিনের ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগের দিন সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া আমির জাঙ্গু নিজের ইনিংসকে আরও সমৃদ্ধ করেন। শেষ পর্যন্ত ১৩৩ রান করে আউট হন তিনি।
এ ছাড়া জাস্টিন গ্রিভস ৫১ এবং কেভিন উইকহ্যাম ৬১ রান করেন। তাদের ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় ক্যারিবীয়রা। শেষ দিকে জোমেল ওয়ারিক্যান ও জেইডেন সিলসও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। শেষ উইকেটে তাদের ৩৩ রানের জুটি বাংলাদেশের বোলারদের কিছুটা ভোগায়।
অবশেষে ১০৬.৪ ওভারে ৩৫৬ রানে অলআউট হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন হাসান মাহমুদ। ৯০ রান খরচায় ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয়বারের মতো ছয় উইকেট নেওয়ার কীর্তি।
একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে স্টাম্পিংয়ের মাধ্যমে উইকেট নেওয়ার নজির গড়েছেন হাসান। তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ দুটি করে উইকেট পেয়েছেন।
ব্যাটিংয়ে শুরুতেই বিপর্যয়
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৫৬ রানে আটকে রাখার পর ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরু করতে পারেনি বাংলাদেশ। সাদমান ইসলামের চোটের কারণে ওপেনিংয়ে নামেন নাঈম হাসান। তবে ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনি। জেইডেন সিলসের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ৫ রান করে ফেরেন নাঈম।
এরপর তানজিদ হাসানও বেশিক্ষণ উইকেটে থাকতে পারেননি। ১৬ রান করে জাস্টিন গ্রিভসের দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হন তিনি। ফলে দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
দলের বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কিন্তু তিনিও ব্যর্থ হন। শামার জোসেফের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ১৮ রান করেন তিনি। এতে মাত্র ৫১ রানেই ৩ উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
হৃদয়-মুশফিকের ব্যাটে স্বস্তি
দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন তাওহিদ হৃদয় ও মুশফিকুর রহিম। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের সামলে দিনের বাকি সময় কাটিয়ে দেন তারা।
চতুর্থ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন থেকে ৩৭ রানের জুটি গড়েছেন এই দুই ব্যাটার। দিন শেষে হৃদয় ২৯ এবং মুশফিক ১৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
৪০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৮৮ রান। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে এখনও ২৬৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে স্বাগতিকরা।
তৃতীয় দিনের শুরুতে হৃদয় ও মুশফিকের জুটির দিকে তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। এই জুটি বড় হলে ইনিংসের ঘাটতি কমিয়ে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পাবে স্বাগতিকরা। অন্যদিকে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়াতে চাইবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

























