আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি
- আপডেট সময় : ১২:২৪:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৯ বার পড়া হয়েছে
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বুধবার তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির এক দিন পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে ঢাকার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন তিনি। পরে আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার (৪ নভেম্বর) মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আদালতে হাজির হননি পরীমনি। তার পক্ষে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি অভিনেত্রী।
তবে আসামিপক্ষের এই আবেদনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল। তার অভিযোগ, পরীমনি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে হাজির হচ্ছেন না। বারবার সময়ের আবেদন করে বিচারকাজ বিলম্বিত করছেন তিনি।
পরে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহফুজুর রহমান সময়ের আবেদন নাকচ করেন। একই সঙ্গে পরীমনির জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
এক দিন পরই আদালতে আত্মসমর্পণ
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরদিনই আদালতে হাজির হন পরীমনি। বৃহস্পতিবার সকালে আত্মসমর্পণের পর জামিনের আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে বুধবার পরীমনির আইনজীবী জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইবেন তার মক্কেল। জামিন পাওয়ার ব্যাপারেও আশাবাদী ছিলেন তিনি।
কী ঘটেছিল বোট ক্লাবে
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে সাভারের বোট ক্লাবে যান পরীমনি ও তার সহযোগীরা। সেখানে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে পরীমনি তাকে সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ করেন নাসির। এতে তার মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, পরীমনি একটি দামি মদের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। এতে রাজি না হওয়ায় বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের বিচার এখনো চলমান।
যেভাবে শুরু হয় মামলার বিচার
২০২১ সালের ৬ জুলাই পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ। মামলায় মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ আনা হয়।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রতিবেদনে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
এরপর ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, বোট ক্লাবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরীমনি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা রয়েছে। এসব মামলার বিচারিক কার্যক্রম আদালতে চলমান।





















