ডেমোক্র্যাটরা জিতলে সব বিলে ভেটো দেবেন ট্রাম্প
- আপডেট সময় : ০৩:২১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫২ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে তাদের উত্থাপিত প্রতিটি বিলে ভেটো দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকানরা কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, একের পর এক বিলে ভেটো দিলে শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা সমঝোতায় আসতে বাধ্য হবে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের পডকাস্ট ‘পড ফোর্স ওয়ান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসের সঙ্গে কীভাবে কাজ করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘মিস্টার ভেটো’ হয়ে উঠতে পারেন। ডেমোক্র্যাটদের কোনো বিল নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পাস হতে দেবেন না বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
ডেমোক্র্যাটদের প্রতিটি বিলে ভেটো দেওয়ার হুঁশিয়ারি
ট্রাম্পের ভাষ্য, ডেমোক্র্যাটরা একের পর এক বিল পাঠাতে থাকলে তিনি সেগুলোতে ভেটো দেবেন। এভাবে এক থেকে দুই মাস সব বিল আটকে থাকলে ডেমোক্র্যাটরা বুঝতে পারবেন, এতে শুধু সময় নষ্ট হচ্ছে। তখন তারা আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবেন এবং সমঝোতার পথ খুঁজবেন।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা বিল পাঠাতে থাকবে। আপনি তাতে ভেটো দেবেন। এভাবে এক-দুই মাস ধরে সব বিল আটকে যাওয়ার পর তারা বুঝবে, শুধু সময় নষ্ট হচ্ছে। তখন তারা আলোচনায় আসবে, আর আপনি সমঝোতা করবেন।’
আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে দুই দলের মধ্যে সমঝোতা নতুন কোনো বিষয় নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অতীতেও এমন পরিস্থিতিতে সমঝোতা হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমাধান আসতে পারে।
তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর মতে, নির্বাচনে রিপাবলিকানরা ভালো ফল করলে এ ধরনের কৌশল নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
ট্রাম্পের ভেটো ব্যবহারের হিসাব
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত মাত্র দুবার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, প্রথম মেয়াদে তিনি মোট ১০টি বিলে ভেটো দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, কংগ্রেসে পাস হওয়া কোনো বিলে প্রেসিডেন্ট ভেটো দিতে পারেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য আবার বিলটির পক্ষে ভোট দিলে প্রেসিডেন্টের ভেটো অগ্রাহ্য করা সম্ভব। অর্থাৎ, প্রেসিডেন্টের আপত্তি থাকলেও নির্দিষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে কংগ্রেস বিলটি আইনে পরিণত করতে পারে।
তৃতীয়বার নির্বাচনে দাঁড়ানোর ইচ্ছা ট্রাম্পের
সাক্ষাৎকারে তৃতীয়বারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প।
তিনি জানান, সুযোগ পেলে আবারও নির্বাচনে দাঁড়াতে তাঁর ভালো লাগবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বিধিনিষেধের বিষয়টিও স্বীকার করেন তিনি।
এ সময় সংবিধানের ২২তম সংশোধনীর কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এই সংশোধনী অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনে লড়াই
যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলো এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টির জন্য ভোট নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে রিপাবলিকান পার্টি। তবে বিভিন্ন নির্বাচনী জরিপে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। দলটি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আশা করছে।
নির্বাচনের আগে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পরিবর্তনের নির্বাচন নয়। বরং এর মাধ্যমে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হয়। ফলে এবারের নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে আইন প্রণয়ন, সরকারি নীতি বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


























