পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাকারীকে বরখাস্ত করলেন হেগসেথ
- আপডেট সময় : ০১:৪০:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার পরিকল্পনা নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক পরিকল্পনাকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে বরখাস্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তবে তাঁকে বরখাস্ত করার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত এলো, যখন ইরানে সম্ভাব্য নতুন মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়ে আলোচনা চলছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৮ অক্টোবর) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা সিলভিয়াকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কৌশল ও পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি
লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়া যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সামরিক কাঠামোয় বিভাগটি ‘জে-ফাইভ’ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল নির্ধারণ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে এই বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
তবে সিলভিয়াকে কেন এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবেও নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
এই সিদ্ধান্তের ফলে পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিকল্পনা বিভাগে নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটল। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযান নিয়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন এই পরিবর্তন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
হেগসেথের অধীনে দ্বিতীয় জেনারেলকে সরানো হলো
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের অধীনে এই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া দ্বিতীয় জেনারেল হলেন সিলভিয়া। এর আগে গত অক্টোবরে তাঁর পূর্বসূরি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোসেফ ম্যাকগিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল।
পরপর দুই জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তার দায়িত্বে পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্ব ও পরিকল্পনা কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে এসব পরিবর্তনের সঙ্গে ইরানবিষয়ক সামরিক পরিকল্পনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইরানে নতুন হামলার সম্ভাবনা
এদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর আট মাস পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাতের লক্ষ্য পূরণে ‘কাজ শেষ করার’ ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলা চালানো হতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তবে নতুন সামরিক অভিযান সম্পর্কে ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা আক্রমণের পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে ওয়াশিংটন।
এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা আরও বাড়ানো হচ্ছে। অঞ্চলটিতে তৃতীয় একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর পাশাপাশি কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও সেনা মোতায়েনের উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। সম্ভাব্য অভিযানকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে।
তবে নতুন হামলার সময়, লক্ষ্যবস্তু কিংবা অভিযানের পরিধি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সিলভিয়াকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হওয়ার সময় পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা বিভাগে নেতৃত্বের পরিবর্তন ওয়াশিংটনের প্রতিরক্ষা নীতি ও সামরিক কৌশল নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।




















