আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহারে ক্র্যাবের আলটিমেটাম
- আপডেট সময় : ১২:২৮:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৬৪ বার পড়া হয়েছে
সাংবাদিকদের পেশাগত সততা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিয়ে করা ঢালাও মন্তব্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করা না হলে দেশের অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ক্র্যাব।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল ও সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান।
এর আগে, সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য করেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। তাঁর বক্তব্যের একটি অংশে বলা হয়, ‘মাদকের টাকা না পেলে সাংবাদিকরা লিখছেন পুলিশ অকার্যকর।’ অনুষ্ঠানে দেওয়া তাঁর এ বক্তব্য বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এরপর সাংবাদিকদের পেশাগত ভূমিকা ও মর্যাদা নিয়ে এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানায় ক্র্যাব।
সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়
যৌথ বিবৃতিতে ক্র্যাবের নেতারা বলেন, পুলিশের সর্বোচ্চ পদে আসীন একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে সাংবাদিকদের নিয়ে এমন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ও উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মাদক নির্মূলে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একইভাবে পুলিশের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁরা বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ থাকলে তা সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করা যেতে পারে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বিচ্ছিন্ন কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো সাংবাদিক সমাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সমীচীন নয়।
ক্র্যাব নেতাদের মতে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। প্রমাণ ছাড়া ঢালাও মন্তব্য করলে সাংবাদিকদের পেশাগত সততা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব
বিবৃতিতে ক্র্যাব নেতারা উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব শুধু সংবাদ পরিবেশন করা নয়; বরং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা, অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় জনগণের সামনে উপস্থাপন করাও তাঁদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পুলিশের কার্যক্রম, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। এসব বিষয়ে পুলিশের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা সমালোচনা করাকে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে অর্থ না পাওয়ার প্রতিক্রিয়া হিসেবে চিত্রিত করা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মনে করেন সংগঠনটির নেতারা।
তাঁদের মতে, পুলিশের কোনো কার্যক্রমে দুর্বলতা, অনিয়ম কিংবা ব্যর্থতার অভিযোগ উঠলে সাংবাদিকেরা তা অনুসন্ধান করে জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেন। এ ধরনের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। তাই সংবাদ বা সমালোচনার পেছনে সাংবাদিকদের অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে—এমন সাধারণীকরণ দায়িত্বশীল অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সাংবাদিকদের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষার দাবি
ক্র্যাবের নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। কারণ, এ ধরনের বক্তব্য জনমনে সাংবাদিকদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখেও পড়তে হতে পারে।
তাঁরা মনে করেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করা উচিত। অভিযোগের তদন্ত ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আইনানুগ পদ্ধতি অনুসরণ করাই যুক্তিসংগত। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার সমুন্নত রাখা প্রয়োজন।
বিবৃতিতে ক্র্যাব নেতারা আইজিপির উল্লেখিত বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল অবস্থান গ্রহণের দাবি জানান তাঁরা।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহারের আলটিমেটাম
সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির মন্তব্য প্রত্যাহারের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ক্র্যাব। সংগঠনটির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করা না হলে সাংবাদিকদের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও পেশাগত অধিকার রক্ষায় দেশের অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, মাদক নির্মূলে পুলিশের ভূমিকা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি—দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। ক্র্যাবের এ বিবৃতির মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগের পরিবর্তে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বক্তব্য দেওয়া এবং অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ তদন্তের দাবি সামনে এসেছে।





















