সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ
- আপডেট সময় : ১২:৪০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৮৬ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ওসির রাজনৈতিক অতীত নিয়ে মন্তব্য করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আপনি তো বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন।’
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা না দেওয়া এবং থানার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাতে সরাইল থানায় যান সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। এ সময় তাঁর সঙ্গে কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন। তাঁদের একজন ওসির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
তবে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তিকে শিখিয়ে আনা হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ওসির রাজনৈতিক অতীত প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা।
ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ
থানায় গিয়ে রুমিন ফারহানা ওসির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান। তাঁর সঙ্গে যাওয়া এক ব্যক্তি ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তবে ওসি এ অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করেন এবং অভিযোগকারীকে শিখিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, রুমিন ফারহানার অভিযোগ, ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে গিয়ে একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন রুমিন।
শত শত লোক নিয়ে থানায় যাওয়ার অভিযোগ ওসির
এদিকে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া। তাঁর দাবি, সংসদ সদস্য শত শত লোক নিয়ে থানায় এসে অস্থিরতা তৈরি করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনাটি ঘিরে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। একদিকে সংসদ সদস্য থানার ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে ওসি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে থানায় অস্থিরতা তৈরির জন্য সংসদ সদস্যের উপস্থিতিকে দায়ী করেছেন।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং থানায় ঠিক কী ঘটেছিল, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।




















