সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১ পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার
- আপডেট সময় : ০৪:১০:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশে শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রতিমা বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ড্রোন ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। গুজব, উসকানি ও অপপ্রচার ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে।
আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হবে। মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী ও মহানবমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসব। উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
পূজামণ্ডপে এসআরবির বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা
দুর্গাপূজা উপলক্ষে এসআরবি সারাদেশে বহুমুখী নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি বিশেষ মোটরবাইক রোবাস্ট পেট্রোলিং এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে।
এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা—বাসসকে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আসন্ন দুর্গাপূজা ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এসআরবি বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে পর্যাপ্ত সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।
ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষের সেবা দিতে হটলাইনও চালু রয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, উসকানি ও অপপ্রচার প্রতিরোধে এসআরবির সাইবার উইং নজরদারি করবে।
বিসর্জনে ড্রোন ও হেলিকপ্টারে নজরদারি
প্রতিমা বিসর্জনের সময় বিভিন্ন স্থানে মানুষের ব্যাপক সমাগম হয়। এ সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আকাশপথে নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এসআরবির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায়ও বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপসহ গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল মণ্ডপগুলোতে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি বিশেষ টহল দল দায়িত্ব পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, অপরাধপ্রবণ এলাকা, জনবহুল স্থান এবং বড় পূজামণ্ডপে যাতায়াতের সড়কগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। পাশাপাশি অপরাধ বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিন স্তরের নিরাপত্তা দেবে পুলিশ
দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। প্রাক-পূজা, পূজা চলাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী সময়কে কেন্দ্র করে এসব ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশের পূজাকেন্দ্রিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে পূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূজার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট প্রস্তুত থাকবে।
এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল চালু থাকবে। এসব সেলের মাধ্যমে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
২ লাখ ১২ হাজারের বেশি আনসার সদস্য মোতায়েন
দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় সারাদেশে ২ লাখ ১২ হাজার ৮৩৪ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপে আটজন করে এবং সাধারণ পূজামণ্ডপে ছয়জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পরিচালক (অপারেশন) মো. আইয়ুব আলী বাসসকে এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রতিমা নির্মাণস্থান, পূজামণ্ডপ ও মন্দির পরিদর্শনসহ আগাম নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
আইয়ুব আলী আরও বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, প্রবেশ ও বহির্গমন ব্যবস্থাপনা, আলোকসজ্জা এবং অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তায় ব্যবহার হবে এনটিএমসির বিশেষ অ্যাপ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশে ধর্মীয় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। এ বছর রেকর্ডসংখ্যক প্রায় ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দেড় হাজার বেশি।
তিনি বলেন, পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও তদারকি বাড়ানো হবে। জাতীয় নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) বিশেষ অ্যাপ দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হবে। এ লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টার মনিটরিং টিম সক্রিয় থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। উৎসব চলাকালে যেকোনো গুজব বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে যাচাই করা তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



























