বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শতাধিক গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৩:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৫ বার পড়া হয়েছে
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের শতাধিক গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদান এবং শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় এসব শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
শিক্ষকদের অবদানের স্বীকৃতি
শিক্ষকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের পেশাগত মর্যাদা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা এবং শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ অবদান রাখা শিক্ষকদের মধ্য থেকে শতাধিক শিক্ষককে এ সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়া শিক্ষকরা শিক্ষা ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও অবদানের স্বীকৃতি পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতি শিক্ষক সমাজকে আরও উৎসাহিত করবে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে আরও আন্তরিকভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
শিক্ষকদের গুরুত্ব তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ভিত্তি গড়ে ওঠে মানসম্মত শিক্ষার ওপর। আর সেই শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষক শুধু শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না, বরং তাদের চিন্তা, মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখেন।
তিনি বলেন, একটি প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হলে শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের জন্য অনুকূল কর্মপরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মানবিক ও নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষাও দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম।
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে গুরুত্ব
বর্তমান সময়ে শিক্ষাব্যবস্থায় নানা পরিবর্তন আসছে। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে শিক্ষার ধরনও বদলে যাচ্ছে। ফলে শিক্ষকদেরও সময়ের সঙ্গে নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করতে হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়। দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল শিক্ষক তৈরি এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়াও জরুরি। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে শিক্ষকদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
এ সময় শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস
প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়। শিক্ষকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং শিক্ষা ও উন্নয়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে এ দিবস পালন করা হয়।
শিক্ষকদের অধিকার, মর্যাদা, কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত উন্নয়নের বিষয়গুলোও দিবসটির আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ উপলক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আলোচনা, সম্মাননা এবং বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশেও প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার রাজধানীতে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে শতাধিক গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হলো।
অনুষ্ঠানে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষকদের সম্মাননা দেওয়ার মধ্য দিয়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে দায়িত্ব পালনে শিক্ষক সমাজকে উৎসাহিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।



























