০২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুদকের অনুসন্ধান রাজনৈতিক হয়রানি: আসিফ মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০১:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৪২ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি ও ভয় দেখানোর প্রক্রিয়ার অংশ বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য দুর্নীতি খুঁজে বের করা নয়; বরং রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধানের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এর আগে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদক চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে।

‘অভিযোগগুলো মিথ্যা’

আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে, সেগুলো মিথ্যা। তাঁর ভাষ্য, দুদকের অনুসন্ধানকে তিনি প্রকৃত অনুসন্ধান মনে করছেন না। বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন-পীড়ন, ভয় দেখানো এবং কথা বলা থেকে বিরত রাখার যে প্রক্রিয়া ছিল, আবারও সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আসিফ মাহমুদের দাবি, নির্দিষ্ট ঘটনাগুলো অনুসন্ধান করতে হলে তাঁর পরিবর্তে বর্তমান সরকারের সময়ের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি বলেন, নথিপত্র দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো বিএনপি সরকারের সময়ে ঘটেছে।

নিজের পদত্যাগের সময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগপত্র দেন এবং ১১ ডিসেম্বর তা গৃহীত হয়।

‘দুদক রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে’

দুদকের সংস্কার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তাঁর অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দুদক সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তা বাতিল করে আবার দলীয় কায়দায় দুদক গঠন করা হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, এই দুদকও রাজনৈতিক কায়দায় পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে হয়রানি করতেই অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে।

‘মিডিয়া ট্রায়াল করা হয়েছে’

দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর অভিযোগ, দুদকের মুখপাত্র তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বলার পর সেটি প্রকাশ্যে প্রত্যাহার না করে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রত্যাহার করেছিলেন।

এর ফলে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি করেন তিনি। আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, এর মাধ্যমে তাঁর মানহানি হয়েছে এবং তাঁকে চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর মুখে ফেলা হয়েছে।

‘ক্ষমতাশালীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’

সরকারে থাকার সময় বিভিন্ন জনবান্ধব ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে ক্ষমতাশালী কিছু ব্যক্তির ক্ষোভের মুখে পড়েছেন বলেও দাবি করেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অনেক ক্ষমতাশালী ব্যক্তির তাঁর ওপর ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এখন তাঁরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করছেন।

এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর ও তাঁর পরিবারের মানহানি করার একটি উপায় হিসেবেও এসব বিষয় ব্যবহার করা হচ্ছে।

‘দুদককে হুমকি দেওয়ার কিছু নেই’

এর আগে তাঁর দেওয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে দুদকের মুখপাত্রকে ‘আলটিমেটাম’ দেওয়ার বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কেরও ব্যাখ্যা দেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, দুদককে হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। দুদক একটি প্রতিষ্ঠান। তবে দুদকের মুখপাত্র ভুল বক্তব্য দেওয়ার পর তা সংশোধন না করায় এবং এর ফলে একজন নাগরিকের মানহানি হওয়ায় তিনি তাঁকে আলটিমেটাম দিয়েছিলেন।

দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে আসিফ মাহমুদের বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করছে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও মিডিয়া উপকমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

দুদকের অনুসন্ধান রাজনৈতিক হয়রানি: আসিফ মাহমুদ

আপডেট সময় : ০১:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি ও ভয় দেখানোর প্রক্রিয়ার অংশ বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য দুর্নীতি খুঁজে বের করা নয়; বরং রাজনৈতিকভাবে হয়রানি ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করা।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে তাঁর দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধানের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এর আগে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদক চার সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করে।

‘অভিযোগগুলো মিথ্যা’

আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে, সেগুলো মিথ্যা। তাঁর ভাষ্য, দুদকের অনুসন্ধানকে তিনি প্রকৃত অনুসন্ধান মনে করছেন না। বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন-পীড়ন, ভয় দেখানো এবং কথা বলা থেকে বিরত রাখার যে প্রক্রিয়া ছিল, আবারও সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আসিফ মাহমুদের দাবি, নির্দিষ্ট ঘটনাগুলো অনুসন্ধান করতে হলে তাঁর পরিবর্তে বর্তমান সরকারের সময়ের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা উচিত। তিনি বলেন, নথিপত্র দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলো বিএনপি সরকারের সময়ে ঘটেছে।

নিজের পদত্যাগের সময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তিনি পদত্যাগপত্র দেন এবং ১১ ডিসেম্বর তা গৃহীত হয়।

‘দুদক রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে’

দুদকের সংস্কার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তাঁর অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দুদক সংস্কারের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তা বাতিল করে আবার দলীয় কায়দায় দুদক গঠন করা হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ বলেন, এই দুদকও রাজনৈতিক কায়দায় পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে হয়রানি করতেই অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে।

‘মিডিয়া ট্রায়াল করা হয়েছে’

দুদকের মুখপাত্রের বক্তব্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর অভিযোগ, দুদকের মুখপাত্র তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা বলার পর সেটি প্রকাশ্যে প্রত্যাহার না করে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রত্যাহার করেছিলেন।

এর ফলে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি করেন তিনি। আসিফ মাহমুদের ভাষ্য, এর মাধ্যমে তাঁর মানহানি হয়েছে এবং তাঁকে চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’-এর মুখে ফেলা হয়েছে।

‘ক্ষমতাশালীদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’

সরকারে থাকার সময় বিভিন্ন জনবান্ধব ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে ক্ষমতাশালী কিছু ব্যক্তির ক্ষোভের মুখে পড়েছেন বলেও দাবি করেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অনেক ক্ষমতাশালী ব্যক্তির তাঁর ওপর ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। এখন তাঁরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করছেন।

এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর ও তাঁর পরিবারের মানহানি করার একটি উপায় হিসেবেও এসব বিষয় ব্যবহার করা হচ্ছে।

‘দুদককে হুমকি দেওয়ার কিছু নেই’

এর আগে তাঁর দেওয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে দুদকের মুখপাত্রকে ‘আলটিমেটাম’ দেওয়ার বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কেরও ব্যাখ্যা দেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, দুদককে হুমকি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। দুদক একটি প্রতিষ্ঠান। তবে দুদকের মুখপাত্র ভুল বক্তব্য দেওয়ার পর তা সংশোধন না করায় এবং এর ফলে একজন নাগরিকের মানহানি হওয়ায় তিনি তাঁকে আলটিমেটাম দিয়েছিলেন।

দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে আসিফ মাহমুদের বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন তাঁর বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করছে সংস্থাটি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও মিডিয়া উপকমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।