ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের (সেটলার) সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিরল সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) নাবলুস জেলার ফিলিস্তিনি গ্রাম কুসরার উপকণ্ঠে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, কয়েক দিন আগে কুসরার কাছে একটি অবৈধ আউটপোস্ট বা চৌকি স্থাপন করে একদল ইহুদি বসতি স্থাপনকারী। এর ফলে ওই এলাকার তিনটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়িতে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনাটি জানার পর ইসরায়েলি সেনারা সেখানে গিয়ে বসতি স্থাপনকারীদের চৌকি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে তারা সেনাদের নির্দেশ অমান্য করে এবং তর্কে জড়িয়ে পড়ে। পরে বুধবার সেনারা ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় বসতি স্থাপনকারীরা সেনাদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করে। জবাবে সেনারা তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পরে সেনারা চৌকিটি ভেঙে দিয়ে এলাকা ত্যাগ করলেও কিছু সময় পর বসতি স্থাপনকারীরা আবার সেখানে ফিরে আসে বলে জানা গেছে।
অবরুদ্ধ তিনটি বাড়ির একটি পরিবারের সদস্য আয়শা হাসান রয়টার্সকে বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা তাদের বাড়ির ফটক ভাঙার চেষ্টা করেছে, পাথর ছুড়েছে এবং গালাগাল করেছে। তিনি বলেন, “আমরা খুব ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে আছি।”
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় সীমান্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি শান্ত হয়নি।”
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সরাসরি সংঘর্ষ অত্যন্ত বিরল। কারণ পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের কার্যক্রমের প্রতি বর্তমান ইসরায়েলি সরকারের অনেক সদস্যের সমর্থন রয়েছে।
১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে পশ্চিম তীর দখল করে ইসরায়েল। প্রায় ৫ হাজার ৬৫৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বড় অংশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে।
সূত্র: রয়টার্স