১২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৮০ দিনে বিচার শেষ না হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বাতিল হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:২৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫২৪ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হলেও মামলা বাতিল বা বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত হবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার সময়সীমা বাধ্যতামূলক নয়, নির্দেশনামূলক

ফলে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বিচার চালিয়ে যেতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

১৮০ দিনের সময়সীমা নিয়ে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত

‘মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে পাভেল বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় এ সিদ্ধান্ত দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে. এম. কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২০২৩ সালের ৭ জুন রায়টি দেন।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২০ ও ৩১ক ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হওয়ার কারণে মামলার বিচারিক কার্যক্রম বাতিল বা স্থগিত করার কোনো বিধান নেই।

তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না হলেও মামলার কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হবে না।

মামলার পটভূমি

রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, কলেজে যাওয়া-আসার সূত্রে পাভেলের সঙ্গে ইডেন কলেজের এক শিক্ষার্থীর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ২০০৭ সালের ৮ জুলাই একটি বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় এবং তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর অভিযোগও আনা হয়।

এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর শ্যামপুর থানায় পাভেলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা।

তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে মামলাটি ঢাকার ১ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচার জন্য পাঠানো হয়। ২০০৮ সালের ২৩ জুলাই পাভেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ অস্বীকার করেন।

১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হওয়ার অভিযোগ

২০১১ সালের ৮ মে পাভেল হাইকোর্টে রিট করেন। তার দাবি ছিল, মামলার নথি ২০০৮ সালের ১৩ জুলাই ট্রাইব্যুনালে গ্রহণ করা হলেও আইন অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হয়নি।

এ কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২০ ও ৩১ক ধারার বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আইনের ৩১ক ধারায় নির্ধারিত সময়ে বিচার শেষ না হলে এর কারণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল, পাবলিক প্রসিকিউটর ও পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট ও সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান রয়েছে বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়।

পাভেল বিচারিক কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করলে হাইকোর্ট প্রথমে মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে ওই স্থগিতাদেশ বিভিন্ন সময়ে বাড়ানো হয়।

রিট খারিজ করে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

পরবর্তীতে উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারা পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট রুলটি খারিজ করেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকার বিষয়টি রিটকারীর দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রিটকারীর পক্ষ থেকে পরবর্তী কিছু আদেশ গোপন করার বিষয়টিও আদালত উল্লেখ করেন।

হাইকোর্ট বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তাতে রিটকারীর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি। কারণ নির্ধারিত ১৮০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার কারণে আসামির পক্ষে বিচার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোনো আইনগত অধিকার সৃষ্টি হয়নি।

ফলে হাইকোর্ট রিটের ভিত্তিতে জারি করা রুল খারিজ করেন এবং এর আগে দেওয়া মামলার বিচার স্থগিতের আদেশ প্রত্যাহার ও বাতিল করেন।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

১৮০ দিনে বিচার শেষ না হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বাতিল হবে না

আপডেট সময় : ১২:২৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হলেও মামলা বাতিল বা বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত হবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার সময়সীমা বাধ্যতামূলক নয়, নির্দেশনামূলক

ফলে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বিচার চালিয়ে যেতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

১৮০ দিনের সময়সীমা নিয়ে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত

‘মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে পাভেল বনাম রাষ্ট্র’ মামলায় এ সিদ্ধান্ত দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে. এম. কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২০২৩ সালের ৭ জুন রায়টি দেন।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২০ ও ৩১ক ধারা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হওয়ার কারণে মামলার বিচারিক কার্যক্রম বাতিল বা স্থগিত করার কোনো বিধান নেই।

তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না হলেও মামলার কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হবে না।

মামলার পটভূমি

রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, কলেজে যাওয়া-আসার সূত্রে পাভেলের সঙ্গে ইডেন কলেজের এক শিক্ষার্থীর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ২০০৭ সালের ৮ জুলাই একটি বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

পরবর্তীতে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় এবং তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর অভিযোগও আনা হয়।

এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর শ্যামপুর থানায় পাভেলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা।

তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে মামলাটি ঢাকার ১ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচার জন্য পাঠানো হয়। ২০০৮ সালের ২৩ জুলাই পাভেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। তবে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ অস্বীকার করেন।

১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হওয়ার অভিযোগ

২০১১ সালের ৮ মে পাভেল হাইকোর্টে রিট করেন। তার দাবি ছিল, মামলার নথি ২০০৮ সালের ১৩ জুলাই ট্রাইব্যুনালে গ্রহণ করা হলেও আইন অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হয়নি।

এ কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২০ ও ৩১ক ধারার বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

আইনের ৩১ক ধারায় নির্ধারিত সময়ে বিচার শেষ না হলে এর কারণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল, পাবলিক প্রসিকিউটর ও পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট ও সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান রয়েছে বলেও রিটে উল্লেখ করা হয়।

পাভেল বিচারিক কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করলে হাইকোর্ট প্রথমে মামলার কার্যক্রম তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। পরে ওই স্থগিতাদেশ বিভিন্ন সময়ে বাড়ানো হয়।

রিট খারিজ করে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার

পরবর্তীতে উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর সংশ্লিষ্ট ধারা পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট রুলটি খারিজ করেন।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকার বিষয়টি রিটকারীর দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রিটকারীর পক্ষ থেকে পরবর্তী কিছু আদেশ গোপন করার বিষয়টিও আদালত উল্লেখ করেন।

হাইকোর্ট বলেন, মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তাতে রিটকারীর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়নি। কারণ নির্ধারিত ১৮০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার কারণে আসামির পক্ষে বিচার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোনো আইনগত অধিকার সৃষ্টি হয়নি।

ফলে হাইকোর্ট রিটের ভিত্তিতে জারি করা রুল খারিজ করেন এবং এর আগে দেওয়া মামলার বিচার স্থগিতের আদেশ প্রত্যাহার ও বাতিল করেন।