সৌদির দুই বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ৩, আহত ৩৬
- আপডেট সময় : ০১:১৯:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ও বুধবার সৌদির আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসব হামলা চালানো হয়।
সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাতে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
আবহা বিমানবন্দরে নিহত ২
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার দুই নাগরিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৮ জন।
আহতদের মধ্যে দুইজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও বাংলাদেশি ও ফিলিপাইনের নাগরিক রয়েছেন। আহত কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আটজন আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি
হামলার ঘটনায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বুধবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।
হুতি বিদ্রোহীদের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারী দাবি করেছেন, বিমান চলাচলের অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই সৌদির বিমানবন্দরগুলোতে হামলা করা হয়েছে।
ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র
হুতি বিদ্রোহী এবং সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে গত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তীব্র সংঘাত চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের লড়াই মূলত বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের এলাকাকে কেন্দ্র করে চলছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্য সীমিত হয়ে পড়ায় জ্বালানি রপ্তানির ক্ষেত্রে বাব আল-মান্দেব নৌপথের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে ইয়েমেনের সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বাস্তুচ্যুত দুই লাখের বেশি
ইয়েমেনের চলমান সংঘাতের কারণে মানবিক পরিস্থিতিও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, হুতিদের সঙ্গে ইয়েমেনি ও সৌদি-সমর্থিত সামরিক জোটের সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর থেকে দুই লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ রয়টার্সকে বলেছেন, মানুষ জীবন বাঁচাতে ছুটছে, কিন্তু নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছে না। খাদ্য ও আশ্রয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় তিনি আরও তহবিলের আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের কিছু এলাকায় প্রতি চারটি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবার খাদ্যসংকটে পড়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পাশাপাশি নতুন করে সহিংসতা বাড়ায় দেশটির মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।




















