মিরপুরে রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা-লুটপাটের মামলায় গ্রেপ্তার ৪
- আপডেট সময় : ১২:৪৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৬ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর মিরপুরে স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শাহ আলী থানায় মামলা করেছে। মামলায় হানিফ মিয়া নামে একজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে ক্লিনিকের আশপাশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
মুখোশ পরা শতাধিক ব্যক্তির হামলার অভিযোগ
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, মুখোশ পরা অন্তত দুই শতাধিক ব্যক্তি নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ক্লিনিকের ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর তারা চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষ ও স্থাপনায় তল্লাশি চালিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, সরকারি টিকা, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী নিয়ে যায়।
কর্তৃপক্ষের দাবি, লুটপাটের পর হামলাকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ক্লিনিকের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে একটি পাকা ভবন ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি
হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর ক্লিনিকের জায়গায় একটি সাইনবোর্ড টাঙানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে ওই সাইনবোর্ডের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
হামলা ও লুটপাটের সময় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বলে দাবি করেছেন ক্লিনিক সংশ্লিষ্টরা। তবে তাদের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ঘটনার সময় পুলিশ কেন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এমপি মিষ্টির বিরুদ্ধে ইন্ধনের অভিযোগ
এ ঘটনার পেছনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ইন্ধন ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
এদিকে, ঘটনার পর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। মামলার পর হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।




















