মিরপুরে পিকআপ ভ্যানে আগুন মামলায় আসামি অজ্ঞাত ৫০০
- আপডেট সময় : ০১:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৩২ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর মিরপুরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে ডিএনসিসির কর্মকর্তা মহসিন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে সংঘর্ষ, সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন এবং বিভিন্ন যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে।
ডিএনসিসি কর্মকর্তার করা মামলা
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর-১০ নম্বর সেকশন এলাকায় ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় হকার ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পরে সংঘর্ষের একপর্যায়ে ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে একটি এক্সকাভেটর এবং পুলিশের একটি গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পাশাপাশি আগুন ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করা হয়।
উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা
বুধবার মিরপুর-১০ নম্বর সেকশন এলাকায় ফুটপাত দখল করে থাকা অবৈধ স্থাপনা এবং হকার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসিসি। নগরীর ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক রাখার উদ্দেশ্যে এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় হকারদের সঙ্গে ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সংঘর্ষের মধ্যেই ডিএনসিসির কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। আগুনের কারণে যানবাহনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি অভিযান পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটর এবং পুলিশের একটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।
ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করছে পুলিশ
কাফরুল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মামলায় বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ফলে ঘটনার সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত ছিলেন, তা শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করছে পুলিশ।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের সময় ধারণ করা ভিডিও, বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তে কাজে লাগানো হচ্ছে। এসব তথ্য যাচাই করে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা
ঘটনার পর মিরপুর-১০ ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় যাতে নতুন করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় পাওয়া গেলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে মামলায় আসামিদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনো উল্লেখ করা হয়নি।
উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

















