মানবাধিকার সুরক্ষায় বিএনপি সরকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
- আপডেট সময় : ১২:৩৮:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫২৮ বার পড়া হয়েছে
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বাংলাদেশে সেপ্টেম্বরে সংসদে অনুমোদিত তিনটি আইন মানবাধিকার সুরক্ষার বিদ্যমান ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে। সংস্থাটির দাবি, এসব আইনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে এবং সংস্কারের বিষয়ে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টির (বিএনপি) প্রতিশ্রুতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হিউম্যান রাইটস ওয়াচ -এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন আইনগুলোর ফলে ভবিষ্যতে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সক্ষমতা কমতে পারে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করতে দুটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এসব ব্যবস্থায় গুম প্রতিরোধ, তদন্ত এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছিল।
তবে বর্তমান সরকার এসব সুরক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন আইন করেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ -এর মতে, এতে কমিশনের স্বাধীনতা ও তদন্তের ক্ষমতা কমেছে। নতুন আইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশনের সরাসরি তদন্তের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে।
গুমের অভিযোগ তদন্তেও পরিবর্তন
৬ সেপ্টেম্বর সংসদ ‘জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ পাস করে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, এই আইন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশে থাকা কিছু সংস্কার বাতিল করেছে।
আগের ব্যবস্থায় গুমের অভিযোগ তদন্তের পাশাপাশি আটক কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শনের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-এর ছিল। নতুন আইনে এসব ক্ষমতা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও আইনি মানদণ্ড পরিবর্তন করা হয়েছে।
র্যাবের নাম বদল নিয়েও সমালোচনা
১০ সেপ্টেম্বর সংসদ ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন’ পাস করে র্যাবের নাম পরিবর্তন করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) করার ব্যবস্থা করে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ -এর দাবি, এটি কার্যত র্যাব বিলুপ্ত না করে নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন বাহিনী হিসেবে চালু করার সমান।
সংস্থাটি জানায়, নতুন বাহিনীটি ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু করেছে। র্যাবের জনবল, ক্ষমতা ও সম্পদও নতুন বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমনকি বাহিনীর লোগোতেও শুধু র্যাব-এর জায়গায় এসআরবি লেখা হয়েছে।
প্রকৃত নিরাপত্তা খাত সংস্কারের আহ্বান
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর এশিয়া বিষয়ক পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেন, অতীতের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতে প্রকৃত সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি স্বাধীন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংস্থাটি আরও বলেছে, নতুন এসআরবি-এর কার্যক্রমের জন্য প্রণয়ন হতে যাওয়া বিধিতে মানবাধিকার যাচাই, স্বাধীন তদারকি, গ্রেপ্তার ও আটক বিষয়ে সুরক্ষা এবং জবাবদিহির ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।
সূত্র: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ; প্রকাশিত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।





















