০১:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:২৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৩৫ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের হামলা বা নাশকতার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ঘাঁটিটিকে ঘিরে পাওয়া হুমকির কারণেই বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) নেব্রাস্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই একটি হুমকির কথা জানত। তাই সেখানে বোমারু বিমান রাখা হয়নি। তবে ওই হুমকি কার কাছ থেকে এসেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

ঘাঁটিতে হামলার আশঙ্কা

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রোববার পেন্টাগন নিশ্চিত করে যে ফেয়ারফোর্ডে থাকা মার্কিন বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর ট্রাম্প জানান, সিদ্ধান্তটির পেছনে নিরাপত্তাজনিত হুমকি ছিল।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, বিমানগুলো দুর্ঘটনাবশত ঘাঁটি ছাড়েনি। সেখানে কিছু হুমকি ছিল এবং শত্রুকে অযথা প্ররোচিত করার পরিবর্তে নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যারা হুমকি দিয়েছে, তাদের সম্পর্কে ওয়াশিংটন জানে। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।

ইরানের দিকে সন্দেহ

ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে বিমান সরিয়ে নেওয়ার ধরন নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ঘাঁটিতে থাকা সংবেদনশীল ও ব্যয়বহুল বোমারু বিমানে হামলা বা নাশকতার আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি নিয়ে ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ তদন্ত করছে।

এ ঘটনায় প্রথমে পাঁচজনকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাকেও পরে জামিন দেওয়া হয়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা

ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে।

ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিরাপত্তা হুমকির কথা উল্লেখ করলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেন। তিনি বলেন, সামরিক মহড়া, নতুন করে মোতায়েন কিংবা কর্মী পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া অস্বাভাবিক নয়।

রুবিও আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো তাদের ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে। ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি।

তবে পরে ভ্যান্স বলেন, ‘অতিরিক্ত সতর্কতার’ অংশ হিসেবেই বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে যে ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে, তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির যোগসূত্র থাকতে পারে।

ইরানের সম্পৃক্ততা অস্বীকার

ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তেহরান জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, ওই ঘটনায় ইরানের জড়িত থাকার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। মার্কো রুবিওও বলেছিলেন, ঘটনায় স্পষ্টভাবেই কোনো বিদেশি পক্ষের হাত ছিল।

এর আগে গত জুলাইয়ে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, ইরানের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি তাদের বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্য হতে পারে।

ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির গুরুত্ব

গ্লুচেস্টারশায়ারের কটসওল্ডসে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড কয়েক দশক ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে বি-১ ও বি-৫২ বোমারু বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রেও ঘাঁটিটি ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটিটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পর এসব বিমান সেখান থেকে পরিচালিত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষণা বিশ্লেষক ক্রিস্টোফ বার্গসের মতে, ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত বড় পরিসরে বিমান হামলা চালানোর মার্কিন সক্ষমতা কিছুটা কমতে পারে।

তবে বিমানগুলো দিয়েগো গার্সিয়া অথবা উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো ঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে আকাশে থাকা অবস্থায় অন্য বিমান থেকে জ্বালানি নেওয়ার প্রয়োজনও কমতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোথায় বিমানগুলো মোতায়েন করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট ঘাঁটির সক্ষমতা, মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

তথ্য উপদেষ্টা আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন অসম্ভব নয় অনলাইন ডেস্ক প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫২ আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন অসম্ভব নয়The City Bank powerful banking App City Touch সংগৃহীত ছবি আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলন বা রিকনসিলিয়েশন অসম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, ‌‌‘দেশের অনেক মানুষ এখনো আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন। তারা বাংলাদেশেরই নাগরিক। আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুনর্মিলনের উদ্যোগ নেওয়া খারাপ কোনো ধারণা নয়, বরং এমন উদ্যোগ হলে ভালো হতো। তবে রিকনসিলিয়েশনের আগে এর মৌলিক ভিত্তি কী হবে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।’ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) তিনি এসব কথা বলেন। আরো পড়ুন ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ৭ তরুণের, আটক ৪ ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা ৭ তরুণের, আটক ৪ তিনি বলেন, ‘মাঝখান থেকে কেউ যদি রিকনসিলিয়েশন চান এবং মনে করেন এটি ভালো উদ্যোগ, তাহলে আমারও মনে হয় এটি ভালো। তাদের উচিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ করা। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে রিকনসিলিয়েশন শুরুর মৌলিক জায়গাটি নিশ্চিত করতে হবে। সেটি হলে এ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ’ জাহেদ উর রহমান বলেন, শুধু আলোচনার মাধ্যমে রিকনসিলিয়েশন শুরু করলেই হবে না। এর জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক শর্ত ও পারস্পরিক অবস্থান স্পষ্ট করা জরুরি। আওয়ামী লীগ সেই জায়গায় এগিয়ে এলে পুনর্মিলন নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, পুনর্মিলনের উদ্যোগ সফল করতে আওয়ামী লীগকেই প্রথমে এগিয়ে আসতে হবে। দলটিকে নিজেদের দায় স্বীকার করতে হবে।

ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ১২:২৮:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের হামলা বা নাশকতার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যে অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ঘাঁটিটিকে ঘিরে পাওয়া হুমকির কারণেই বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) নেব্রাস্কার উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই একটি হুমকির কথা জানত। তাই সেখানে বোমারু বিমান রাখা হয়নি। তবে ওই হুমকি কার কাছ থেকে এসেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

ঘাঁটিতে হামলার আশঙ্কা

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত রোববার পেন্টাগন নিশ্চিত করে যে ফেয়ারফোর্ডে থাকা মার্কিন বোমারু বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এরপর ট্রাম্প জানান, সিদ্ধান্তটির পেছনে নিরাপত্তাজনিত হুমকি ছিল।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, বিমানগুলো দুর্ঘটনাবশত ঘাঁটি ছাড়েনি। সেখানে কিছু হুমকি ছিল এবং শত্রুকে অযথা প্ররোচিত করার পরিবর্তে নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যারা হুমকি দিয়েছে, তাদের সম্পর্কে ওয়াশিংটন জানে। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেননি তিনি।

ইরানের দিকে সন্দেহ

ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে বিমান সরিয়ে নেওয়ার ধরন নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ঘাঁটিতে থাকা সংবেদনশীল ও ব্যয়বহুল বোমারু বিমানে হামলা বা নাশকতার আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি নিয়ে ব্রিটিশ সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ তদন্ত করছে।

এ ঘটনায় প্রথমে পাঁচজনকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর যুক্তরাজ্য ও ইরানের দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাকেও পরে জামিন দেওয়া হয়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা

ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে।

ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিরাপত্তা হুমকির কথা উল্লেখ করলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেন। তিনি বলেন, সামরিক মহড়া, নতুন করে মোতায়েন কিংবা কর্মী পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া অস্বাভাবিক নয়।

রুবিও আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো তাদের ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখে। ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি।

তবে পরে ভ্যান্স বলেন, ‘অতিরিক্ত সতর্কতার’ অংশ হিসেবেই বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে যে ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে, তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির যোগসূত্র থাকতে পারে।

ইরানের সম্পৃক্ততা অস্বীকার

ফেয়ারফোর্ডের ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তেহরান জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে। তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, ওই ঘটনায় ইরানের জড়িত থাকার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে। মার্কো রুবিওও বলেছিলেন, ঘটনায় স্পষ্টভাবেই কোনো বিদেশি পক্ষের হাত ছিল।

এর আগে গত জুলাইয়ে ইরান সতর্ক করে বলেছিল, ইরানের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি তাদের বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্য হতে পারে।

ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির গুরুত্ব

গ্লুচেস্টারশায়ারের কটসওল্ডসে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড কয়েক দশক ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে বি-১ ও বি-৫২ বোমারু বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রেও ঘাঁটিটি ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাজ্য যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটিটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার পর এসব বিমান সেখান থেকে পরিচালিত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের গবেষণা বিশ্লেষক ক্রিস্টোফ বার্গসের মতে, ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত বড় পরিসরে বিমান হামলা চালানোর মার্কিন সক্ষমতা কিছুটা কমতে পারে।

তবে বিমানগুলো দিয়েগো গার্সিয়া অথবা উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো ঘাঁটিতে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে আকাশে থাকা অবস্থায় অন্য বিমান থেকে জ্বালানি নেওয়ার প্রয়োজনও কমতে পারে। শেষ পর্যন্ত কোথায় বিমানগুলো মোতায়েন করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট ঘাঁটির সক্ষমতা, মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।