বিশ্ব পর্যটন দিবসে ১৩ ক্যাটাগরিতে দেওয়া হবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার’
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো দেওয়া হবে ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’। পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৩টি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হবে।
এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হবে বিশ্ব পর্যটন দিবসের আয়োজন
আয়োজকরা জানান, ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় পশ্চিম আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকার পর্যটন ভবনের সামনে থেকে র্যালি শুরু হবে। র্যালিতে পর্যটন খাতের বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেবেন। এতে আবহমান বাংলার জীবনধারা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং ঢাকার ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে।
সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে সাইকেল র্যালি। এরপর সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে সিটি ট্যুরের উদ্বোধন করা হবে। এ আয়োজনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা গাইডেড ট্যুরের মাধ্যমে ঢাকার বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষণ ঘুরে দেখার সুযোগ পাবে।
পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়
২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় পর্যটন ভবনের লেভেল-১০-এর সম্মেলন কক্ষে পর্যটন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা হবে। এতে দেশের পর্যটন উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
৩০ সেপ্টেম্বর একই স্থানে উৎস দেশগুলোর কূটনীতিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ইনবাউন্ড ট্যুরিজমের প্রসার এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে পর্যটন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
৩ অক্টোবর হবে মূল আয়োজন
বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল আয়োজন হবে ৩ অক্টোবর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে। দুপুর আড়াইটায় ১২টি থিম্যাটিক প্রদর্শনী স্টল উদ্বোধনের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে।
এসব স্টলে দেশের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, খাবার, জিআই পণ্য, ক্রাফট স্যুভেনির, ঐতিহ্যবাহী তাঁত ও বস্ত্র, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্য তুলে ধরা হবে।
এ ছাড়া প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রদর্শনীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দেখানো হবে। এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যটন গন্তব্যের অভিজ্ঞতা, টাইম ট্রাভেল এবং বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ছবি তোলার ধারণা তুলে ধরা হবে।
বিকেল ৩টায় শুরু হবে ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে পর্যটন খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে।
প্রথমবার দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার
এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড প্রথমবারের মতো এ পুরস্কার দিচ্ছে।
১৩টি ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা ও পর্যটন উদ্যোগকে পুরস্কার দেওয়া হবে। পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের পাশাপাশি নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পাবে।
এ ছাড়া পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদান রাখা ব্যক্তি ও উদ্যোগকেও স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
আয়োজকদের আশা, বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬ পর্যটন খাতে উৎকর্ষ, দায়িত্বশীলতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে দেশে টেকসই পর্যটন শিল্পের বিকাশেও এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে।
সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।




















