০১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪৫ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য ও শক্তিশালী উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, নীতির ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানিসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের জন্য স্থিতিশীল ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, তরুণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের বড় সম্পদ। জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগাতে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নতুন প্রযুক্তির পরিবর্তন গ্রহণ করে উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ড ও স্বাস্থ্যসেবা

প্রধানমন্ত্রী জানান, যাদের সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, তাদের লক্ষ্য করে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের মাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষকদের জন্য ফারমার্স কার্ডের মাধ্যমে প্রণোদনা, প্রয়োজনীয় সেবা ও বাজার সংযোগ নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি। একইভাবে হেলথ কার্ডের মাধ্যমে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ এবং ইউনিভার্সাল কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সেবায় সমন্বিত প্রবেশাধিকার তৈরির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কাজ চলছে। তাদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন। স্থানীয় পর্যায়ে এসব স্বাস্থ্যকর্মী প্রাথমিক চিকিৎসা, পরামর্শ ও প্রয়োজনে রেফারেল সেবা দেবেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায়ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য নয়; শিক্ষার্থীদের জীবন ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। এজন্য পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, নৈতিক মূল্যবোধ ও আদর্শ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের তৃতীয় একটি ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার পরিধি বাড়ানো হবে। প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে পোশাক, স্কুলব্যাগ, দুপুরের খাবার ও উপবৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কথাও বলেন তিনি।

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে জোর

কৃষিকে অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি, সেচ, অর্থায়ন ও বাজারে কৃষকের প্রবেশাধিকার সহজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মৎস্য, গবাদিপশু ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদেরও সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি মানেই একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।’

আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও পানিপথ পুনঃখননের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং তিস্তা মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কথা বলেন তিনি।

পরিবেশ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব বা সবুজ কারখানাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তার দাবি, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি ‘লিড সার্টিফায়েড’ কারখানার মধ্যে ৫৩টি বাংলাদেশে রয়েছে।

মানবাধিকার ও রোহিঙ্গা সংকট

মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বাকস্বাধীনতা রক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।

বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবর্তনই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টেকসই রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়ন প্রয়োজন।

বঙ্গোপসাগর ঘিরে সম্ভাবনা

বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৌশলগত ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বন্দর, পানিপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শিপিং, মৎস্য, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সামুদ্রিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ। আলোচনা, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স, ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন এ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’ প্রতিপাদ্যে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শনিবার শুরু হওয়া এ আন্তর্জাতিক সংলাপ চলবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, কূটনীতিক, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে

আপডেট সময় : ১২:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্য ও শক্তিশালী উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, নীতির ধারাবাহিকতা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রী বলেন, উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানিসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের জন্য স্থিতিশীল ও অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, তরুণ জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের বড় সম্পদ। জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগাতে দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নতুন প্রযুক্তির পরিবর্তন গ্রহণ করে উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ড ও স্বাস্থ্যসেবা

প্রধানমন্ত্রী জানান, যাদের সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, তাদের লক্ষ্য করে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের মাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষকদের জন্য ফারমার্স কার্ডের মাধ্যমে প্রণোদনা, প্রয়োজনীয় সেবা ও বাজার সংযোগ নিশ্চিত করার কথা জানান তিনি। একইভাবে হেলথ কার্ডের মাধ্যমে সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ এবং ইউনিভার্সাল কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সেবায় সমন্বিত প্রবেশাধিকার তৈরির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কাজ চলছে। তাদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হবেন। স্থানীয় পর্যায়ে এসব স্বাস্থ্যকর্মী প্রাথমিক চিকিৎসা, পরামর্শ ও প্রয়োজনে রেফারেল সেবা দেবেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবায়ও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষা শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের জন্য নয়; শিক্ষার্থীদের জীবন ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে। এজন্য পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, নৈতিক মূল্যবোধ ও আদর্শ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের তৃতীয় একটি ভাষা শেখার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার পরিধি বাড়ানো হবে। প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে পোশাক, স্কুলব্যাগ, দুপুরের খাবার ও উপবৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের কথাও বলেন তিনি।

কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে জোর

কৃষিকে অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি, সেচ, অর্থায়ন ও বাজারে কৃষকের প্রবেশাধিকার সহজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মৎস্য, গবাদিপশু ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদেরও সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতি মানেই একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।’

আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও পানিপথ পুনঃখননের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া এবং তিস্তা মাস্টারপ্ল্যান তৈরির কথা বলেন তিনি।

পরিবেশ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব বা সবুজ কারখানাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তার দাবি, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি ‘লিড সার্টিফায়েড’ কারখানার মধ্যে ৫৩টি বাংলাদেশে রয়েছে।

মানবাধিকার ও রোহিঙ্গা সংকট

মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বাকস্বাধীনতা রক্ষা সরকারের অগ্রাধিকার বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।

বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবর্তনই সরকারের লক্ষ্য। এ জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টেকসই রাজনৈতিক সমর্থন ও অর্থায়ন প্রয়োজন।

বঙ্গোপসাগর ঘিরে সম্ভাবনা

বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৌশলগত ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে বন্দর, পানিপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

শিপিং, মৎস্য, পর্যটন, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সামুদ্রিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ। আলোচনা, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

‘ফ্র্যাগমেন্টস, ফ্রন্টিয়ার্স, ফিউচারস: নেভিগেটিং পাওয়ার, টেকনোলজি অ্যান্ড ট্রাস্ট ইন এ ওয়ার্ল্ড রিরিটেন’ প্রতিপাদ্যে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শনিবার শুরু হওয়া এ আন্তর্জাতিক সংলাপ চলবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। এতে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিক, কূটনীতিক, গবেষক, অর্থনীতিবিদ, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।