‘প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের ছাদের সৌরবিদ্যুৎ থেকে জাতীয় গ্রিডে ১২০০ ইউনিট সরবরাহ’
- আপডেট সময় : ১২:৩৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৫ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগকে বাস্তবে রূপ দিতে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করেছেন। ওই সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের এক হাজার ইউনিট নিজ বাসভবনে ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে আরও ১ হাজার ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত তিন দিনে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জাতীয় ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমবায় ভবনে শনিবার অনুষ্ঠিত ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা’ সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ডেপুটি ডিরেক্টরদের (এলজি) অংশগ্রহণে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমবায় ভবনসহ দেশের সব জাতীয় ও সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
তিনি বিদ্যুৎ উৎপাদনকে শুধু সরকারি প্রকল্প হিসেবে না দেখে ব্যবসায়িকভাবেও বিবেচনা করার ওপর গুরুত্ব দেন।
নেট মিটারিং নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি নেট মিটারিং পদ্ধতি কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যায়। ফলে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়ার সুযোগ পান।
দুর্গাপূজায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ
সভায় আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে ইউএনওদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
তিনি বলেন, কোনোভাবেই পরিস্থিতি অস্থিতিশীল বা বিশৃঙ্খল হতে দেওয়া যাবে না। স্থানীয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের বিষয়েও ইউএনওদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার মাঠ প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
গরিব মানুষের জন্য ইউএনওদের ঐচ্ছিক ফান্ডের প্রস্তাব
মীর শাহে আলম বলেন, এলাকার দরিদ্র মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে ইউএনওদের কাছে সহায়তা চাইতে আসেন। তাই প্রত্যেক ইউএনওর জন্য একটি ঐচ্ছিক ফান্ড থাকা প্রয়োজন।
তার মতে, এই ফান্ড থাকলে জরুরি প্রয়োজনে দরিদ্র মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ অর্থের ব্যবস্থা করতে না পারলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় রাজস্ব আয় থেকে বরাদ্দ দেওয়ার উদ্যোগ নেবে বলেও জানান তিনি।
মাঠপর্যায়ে সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইউএনওদের ভূমিকা
সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে ইউএনওদের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন কার্ড, খাল খননসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ ইউএনওদের তত্ত্বাবধানে হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও কার্যকর করতে প্রতিবছর ইউএনওদের সম্মেলনের আয়োজন করা যেতে পারে বলেও মত দেন তিনি।
এ ধরনের সম্মেলনে উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সমস্যা ও বিভিন্ন দাবি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ
সভায় নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর মানুষের নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, নিরাপদ পানির সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ ও পানির উৎস সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো, সরকারি ভবনের ছাদ কাজে লাগানো এবং অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার ওপর সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।




















