০৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

পিচ্চি রাজা পালানোর ঘটনায় তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:৪২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৩৪ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজীপুরের বাইমাইল এলাকা থেকে নয়, রাজধানীর তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই ৩০ মামলার আসামি ‘পিচ্চি রাজা’ পালিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর বোন তাসলিমা, স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।

তাঁতীবাজার থেকেই পালানোর তথ্য

পুলিশ কমিশনার জানান, ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে ২৯ আসামিকে নিয়ে একটি প্রিজনভ্যান কাশিমপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে রাজধানীর তাঁতীবাজারের পুপলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে ভ্যানটি থামানো হয়।

সেখানে স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজনভ্যানের চাবি নেন। এরপর পিচ্চি রাজা ও হাজতি আসামি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে নামিয়ে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

খাইরুল বাশারকে পরে প্রিজনভ্যানের চালকের পাশের আসনে বসানো হলেও পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর কুমার আর ভ্যানে ওঠেননি।

প্রাইভেটকারে করে পালানোর দাবি

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই সময় অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। পরে এসআই প্রবীর কুমার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় গিয়ে প্রিজনভ্যানে ওঠেন।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, এরপর স্কট পার্টির সদস্যদের নিয়ে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ‘বাইমাইল থেকে পিচ্চি রাজার পালানোর’ ঘটনা সাজানো হয়। অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে যে স্থান থেকে তিনি পালিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছিল, তদন্তে সেই তথ্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি।

তিনজন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৬০ হাজার টাকা

পুলিশ কমিশনার জানান, বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট লিডার এসআই প্রবীর কুমার এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া চালক কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কী ঘটেছিল সেদিন

গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে রাতে তাদের কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে পিচ্চি রাজা প্রিজনভ্যান থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছিল, রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রিজনভ্যানটি গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে সঙ্গে থাকা এসআই পিচ্চি রাজাকে টয়লেট করানোর জন্য গাড়ি থেকে নামান। এ সময় সুযোগ নিয়ে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে অন্য ২৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পাঁচ পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত

ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজনভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

তদন্তের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পিচ্চি রাজার পালানোর ঘটনায় প্রিজনভ্যানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ভূমিকা এবং ঘটনাটি আড়াল করার সম্ভাব্য প্রচেষ্টা—সবকিছুই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পিচ্চি রাজা পালানোর ঘটনায় তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় : ০৩:৪২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরের বাইমাইল এলাকা থেকে নয়, রাজধানীর তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই ৩০ মামলার আসামি ‘পিচ্চি রাজা’ পালিয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাঁর বোন তাসলিমা, স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।

তাঁতীবাজার থেকেই পালানোর তথ্য

পুলিশ কমিশনার জানান, ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে ২৯ আসামিকে নিয়ে একটি প্রিজনভ্যান কাশিমপুরের উদ্দেশে রওনা দেয়। পথে রাজধানীর তাঁতীবাজারের পুপলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে ভ্যানটি থামানো হয়।

সেখানে স্কট পার্টির ইনচার্জ এসআই প্রবীর কুমার চালক নায়েক কামাল হোসেনের কাছ থেকে প্রিজনভ্যানের চাবি নেন। এরপর পিচ্চি রাজা ও হাজতি আসামি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে নামিয়ে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

খাইরুল বাশারকে পরে প্রিজনভ্যানের চালকের পাশের আসনে বসানো হলেও পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর কুমার আর ভ্যানে ওঠেননি।

প্রাইভেটকারে করে পালানোর দাবি

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই সময় অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারে করে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। পরে এসআই প্রবীর কুমার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় গিয়ে প্রিজনভ্যানে ওঠেন।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, এরপর স্কট পার্টির সদস্যদের নিয়ে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ‘বাইমাইল থেকে পিচ্চি রাজার পালানোর’ ঘটনা সাজানো হয়। অর্থাৎ, প্রাথমিকভাবে যে স্থান থেকে তিনি পালিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছিল, তদন্তে সেই তথ্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার মিল পাওয়া যায়নি।

তিনজন গ্রেপ্তার, উদ্ধার ৬০ হাজার টাকা

পুলিশ কমিশনার জানান, বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ, আলামত ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা, স্কট লিডার এসআই প্রবীর কুমার এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া চালক কামাল হোসেনের বাড়ি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কী ঘটেছিল সেদিন

গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে রাতে তাদের কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে পিচ্চি রাজা প্রিজনভ্যান থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছিল, রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রিজনভ্যানটি গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে সঙ্গে থাকা এসআই পিচ্চি রাজাকে টয়লেট করানোর জন্য গাড়ি থেকে নামান। এ সময় সুযোগ নিয়ে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে অন্য ২৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পাঁচ পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত

ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজনভ্যানের সঙ্গে থাকা এসআই প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব, শাকিল হোসেন এবং প্রিজনভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

তদন্তের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পিচ্চি রাজার পালানোর ঘটনায় প্রিজনভ্যানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দায়িত্বে থাকা সদস্যদের ভূমিকা এবং ঘটনাটি আড়াল করার সম্ভাব্য প্রচেষ্টা—সবকিছুই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।