পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি
- আপডেট সময় : ০২:৪৮:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৪ বার পড়া হয়েছে
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। রোববার (১১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের অনুরোধে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। প্রদেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, জরুরি অবস্থা জারির আগে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে খাইবার পাখতুনখাওয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মন্ত্রিসভার সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জরুরি অবস্থা জারির উদ্যোগ নিতে বলেন। পরে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির কাছে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠানো হলে তিনি তা অনুমোদন করেন।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। বর্তমানে প্রদেশটির মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদির নেতৃত্বে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন চলছে।
গত ৫ অক্টোবর থেকে ইমরান খানের সমর্থকেরা ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেন। তবে এখন পর্যন্ত সেই কর্মসূচি খাইবার পাখতুনখাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে প্রধানমন্ত্রিত্ব হারান ইমরান খান। ২০২৩ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন মামলায় সাজা হওয়ায় তিনি কারাগারে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুক্তির দাবি জানিয়েছে পিটিআই।
পিটিআই সরকারের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জরুরি অবস্থা জারির ফলে খাইবার পাখতুনখাওয়ায় রাজনৈতিক কার্যক্রম ও নাগরিক অধিকার প্রয়োগে বিধিনিষেধ আসতে পারে। একই সঙ্গে প্রদেশটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা বাড়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
ডনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পিটিআইকে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করতে দেবেন না বলে মন্তব্য করেন।
জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্তের ফলে প্রদেশটিতে গভর্নর শাসন কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এতে পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা ও কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে জরুরি অবস্থার অধীনে ঠিক কী কী সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি নির্দেশনা জানা গেলে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।
সূত্র: ডন




















