জাতিসংঘে বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন এআই রেজ্যুলেশন সর্বসম্মতভাবে গৃহীত
- আপডেট সময় : ১২:০৫:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫২৭ বার পড়া হয়েছে
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও মানবাধিকার বিষয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন একটি রেজ্যুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) পরিষদের চলমান ৬৩তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো এআই বিষয়ে ‘মানবাধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব’ শীর্ষক রেজ্যুলেশনটি গৃহীত হয়।
বাংলাদেশের নেতৃত্বে রেজ্যুলেশনের খসড়া
বাংলাদেশের উদ্যোগ ও নেতৃত্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, বাংলাদেশ, মিসর, গ্রিস, গায়ানা, কুয়েত ও নেপালকে নিয়ে গঠিত কোর গ্রুপের পক্ষ থেকে রেজ্যুলেশনটির খসড়া উপস্থাপন করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনায় জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন রেজ্যুলেশনটির পেনহোল্ডার হিসেবে গত আগস্টে কোর গ্রুপের পক্ষে প্রথমবারের মতো এটি মানবাধিকার পরিষদের প্রাক-অধিবেশন সভায় উপস্থাপন করে।
এরপর বাংলাদেশ কোর গ্রুপের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা চালানো হয়।
মানবাধিকারকেন্দ্রিক এআই ব্যবহারে গুরুত্ব
রেজ্যুলেশনটিতে উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি মানবাধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষায় এআইয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এতে ভারসাম্যপূর্ণ, ভবিষ্যতমুখী ও মানবাধিকারকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
রেজ্যুলেশনটি উপস্থাপনের সময় বাংলাদেশ বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাজ ও প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত রূপান্তরে শক্তিশালী প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। তাই এআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে মানবিক মর্যাদা এবং মানুষের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণের আহ্বান
রেজ্যুলেশনটিতে উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পাশাপাশি সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থবহ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
উদীয়মান প্রযুক্তির সুফলে আরও বিস্তৃত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, কারিগরি সহায়তা, জ্ঞান ও বিজ্ঞান বিনিময়, প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বাংলাদেশের নেতৃত্বাধীন রেজ্যুলেশনটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়াকে উদীয়মান বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আলোচনায় অংশগ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর মাধ্যমে ডিজিটাল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত রূপান্তরের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থবহ অংশগ্রহণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এআই থেকে সৃষ্ট সুযোগের ন্যায়সঙ্গত সুফল নিশ্চিত করার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।




















