কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান, পঞ্চম দফায় আটক ৩৬৩
- আপডেট সময় : ০১:১৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫২৮ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের পঞ্চম দফায় আরও ৩৬৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ নিয়ে পাঁচ দফার অভিযানে মোট ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া কর্মকর্তা) লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১৮ থানায় একযোগে অভিযান
পুলিশ জানায়, কুমিল্লাজুড়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। এর অংশ হিসেবে জেলার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত রয়েছে এমন বিভিন্ন স্থান, আড্ডাস্থল এবং অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন। পঞ্চম দফায় মোট ৩৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে।
যাচাই-বাছাই শেষে আইনি ব্যবস্থা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে কি না, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চার দফায় আটক ১ হাজার ৬৭২
এর আগে চার দফার অভিযানে ১ হাজার ৬৭২ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে যাদের অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্যদের মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।
রতন গ্রুপের প্রধান গ্রেপ্তার
পুলিশ আরও জানিয়েছে, শুক্রবারের অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের ‘রতন গ্রুপ’-এর প্রধান মো. রতনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে কুমিল্লা মিশনারী স্কুলের সামনে রতন গ্রুপ ও ঈগল গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে শাহাদাত হোসেন নামে একজন নিহত হন। ওই হত্যা মামলায় রতন প্রধান আসামি। তার বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া ঠেকানোই পুলিশের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।




















