আফগানিস্তানে মধ্যরাতে পাকিস্তানের বিমান হামলা, নিহত ৩
- আপডেট সময় : ১১:৪২:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫২৬ বার পড়া হয়েছে
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় কুনার ও পাকতিকা প্রদেশে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। তালেবান সরকারের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত ও ভোরে চালানো এসব হামলায় অন্তত তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
কুনারে বাড়িতে বিমান হামলা
আফগান বার্তাসংস্থা খ্যামা প্রেস জানিয়েছে, সীমান্তে নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি নিয়ে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এসব হামলা চালানো হয়।
তালেবান কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে কুনার প্রদেশের নুরগাল জেলায় পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। পাটান গ্রামের একটি বাড়িকে লক্ষ্য করে ওই হামলা করা হয়।
তালেবান কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পাকতিকায় দ্বিতীয় দফা হামলা
এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ভোর ৪টার দিকে পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় দ্বিতীয় দফায় বিমান হামলা চালানো হয়।
তালেবান-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তোর কান্দি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত দোকান এবং রাখায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ি হামলায় ধ্বংস হয়েছে। তবে এসব স্থানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে সোমবার সকাল পর্যন্ত এসব বিমান হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
টিটিপিকে ঘিরে দুই দেশের বিরোধ
খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তানে প্রাণঘাতী হামলা বেড়ে যাওয়ার পর সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে পাকিস্তান। এর মধ্যেই আফগানিস্তানের এসব এলাকায় নতুন করে বিমান হামলার ঘটনা ঘটল।
পাকিস্তানের দাবি, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা নিরাপদ আস্তানা থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
দীর্ঘদিনের উত্তেজনা
২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই সীমান্তে বিমান হামলা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। এর আগে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী প্রদেশগুলোতেও বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানের দাবি, এসব হামলায় টিটিপি ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত জঙ্গি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অন্যদিকে, তালেবান কর্মকর্তারা এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে এগুলোকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
তালেবানের অভিযোগ, জঙ্গিদের আস্তানার পরিবর্তে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে পাকিস্তানের দাবি, নিজেদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার থেকেই তারা এসব পদক্ষেপ নেয়।
সর্বশেষ হামলার ফলে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে আগে থেকেই টানাপোড়েনপূর্ণ সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যেই নতুন করে এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।





















