১৯৭১ সালের মার্চে সারাদেশের মত দিনাজপুর ও যশোরও ছিল উত্তাল

0

১৯৭১ সালের মার্চে— সারাদেশের মত দিনাজপুর ও যশোরও ছিল উত্তাল। বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ভাষণের পর— অকার্যকর হয়ে যায় পাকিস্তানি প্রশাসন। অন্যদিকে, স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরও এখনও অরক্ষিত হয়ে আছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পারকুমিরার বধ্যভূমিটি।

বঙ্গবন্ধুর সাত মার্চের ভাষণের পর— দিনাজপুর উত্তাল হয়ে উঠে । দিন-রাত চলতে থাকে মিছিল-মিটিং আর বিক্ষোভ। বঙ্গবন্ধু’র ডাকে সাড়া দিয়ে সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে যুব সমাজ। অকার্যকর হয়ে যায় পাকিস্তানি প্রশাসন। দীর্ঘ ন’মাসের যুদ্ধ শেষে— অসংখ্য গণকবরের সন্ধান মেলে। সে সব শহীদদের স্মরণে বর্তমানে গড়ে উঠেছে ভাষ্কর্য— যা দেখে যুদ্ধের বর্তমান প্রজন্ম অনুপ্রানিত হচ্ছে।

ভারতীয় মিত্র বাহিনী একাত্তরের ছয় ডিসেম্বর, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেও— বয়রা সীমান্ত দিয়ে সাজোয়া ট্যাঙ্ক ও ভারী অস্ত্র নিয়ে যশোরের চৌগাছায় পৌছায় ১৯ নভেম্বর। ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চৌগাছার বিভিন্ন স্থানে পাকসেনাদের সাথে যুদ্ধ সংগঠিত হয় তাদের। এরমধ্যে জগন্নাথপুর যুদ্ধটি এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সম্মুখযুদ্ধ । এই যুদ্ধটি সবশেষে রূপ নেয় মল্লযুদ্ধে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে দেশের একমাত্র মল্লযুদ্ধ এটা। এখানকার যুদ্ধের ধরন ও প্রকৃতি নিয়ে বিভিন্ন দেশের সামরিক একাডেমীতে পাঠদান করানো হয়। কিন্তু জগন্নাথপুরের ঐতিহাসিক আম্রকানন রনাঙ্গনের এই যুদ্ধের স্মৃতিরক্ষায় নেই কোন কার্যকর উদ্যোগ।

কালের স্বাক্ষী বাঙালি জাতির স্বাধীনতা যুদ্ধে রক্ত ঢেলে দেওয়া অমর স্মৃতি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পারকুমিরার বধ্যভূমি আজও অরক্ষিত। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ২৩ এপ্রিল শুক্রবার পাক হানাদার বাহিনী নির্মম নির্যাতন চালিয়ে একসাথে ৭৮ জন নিরস্ত্র বাঙালিকে হত্যা করে। হত্যার পর তাদেরকে একই কবরে মাটি চাপা দেয়। যুদ্ধের অমর স্মৃতি রক্ষণাবেক্ষণের এখনো হয়নি।

শেয়ার করুন।

উত্তর দিন